Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

‘ভাই, আমাকে বাঁচান’—চিৎকার শুনে সিএনজির পিছু নিলেন শাবিপ্রবি ছাত্রদল নেতা, উদ্ধার যুবক

অনলাইন প্রতিনিধি, চেতনা একুশ

রাতের ব্যস্ত সড়ক। টুকের বাজারের দিকে দ্রুত ছুটে চলেছে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। হঠাৎ ভেসে আসে এক যুবকের আতঙ্কিত চিৎকার—‘ভাই, আমাকে বাঁচান!’

প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও অটোরিকশার বাইরে শরীরের অর্ধেক বের করে ওই যুবকের মরিয়া চিৎকার সন্দেহ তৈরি করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আশিকের মনে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মোটরসাইকেল নিয়ে সিএনজিটির পিছু নেন তিনি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই যুবককে উদ্ধার এবং দুইজনকে আটক করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ছিলেন আশিক। চিৎকার শুনে সিএনজিটির দিকে নজর দেন তিনি। অস্বাভাবিকতা বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে মোটরসাইকেলে ধাওয়া শুরু করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসস্ট্যান্ড পেরিয়ে তেমুখী এলাকায় গিয়ে সিএনজিটিকে আর দেখতে পাননি আশিক। একপর্যায়ে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন। ঠিক তখনই পেছন থেকে এক মোটরসাইকেল আরোহী তাকে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে অটোরিকশাটি ধরার পরামর্শ দেন। এরপর আবারও শুরু হয় ধাওয়া।

তেমুখীর ঢালু পেরিয়ে টুকের বাজারের দিকে যাওয়ার সময় অবশেষে সিএনজিটির দেখা পান আশিক। থামার সংকেত দিলেও চালক না থামিয়ে দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকেন। তখন মোটরসাইকেল নিয়ে সামনে গিয়ে রাস্তা আটকে দেন তিনি। এর মধ্যে আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল ঘটনাস্থলে এসে দাঁড়ায়।

সিএনজি থামার পর ভেতরে থাকা দুই ব্যক্তি নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়। পরে সিএনজিচালকসহ অপর এক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন শাবিপ্রবির সহকারী প্রক্টর ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক শামসুদ্দিন। তিনিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে ওই যুবকের চিৎকার শুনে মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান বলে জানা গেছে।

উদ্ধার হওয়া যুবক জানান, তিনি একটি ওয়ার্কশপে কাজ করেন। কয়েকজন ব্যক্তি কথা বলার কথা বলে তাকে বাইরে ডেকে নেন। পরে চায়ের দোকানে যাওয়ার কথা বলে তাকে সিএনজিতে উঠতে বলেন। তিনি আপত্তি করলে জোর করে অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়।

কিছুক্ষণ পর ওই যুবক বুঝতে পারেন, তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তখন সুযোগ বুঝে শরীরের কিছু অংশ অটোরিকশার বাইরে বের করে চিৎকার করে সাহায্য চাইতে থাকেন তিনি। তাঁর সেই চিৎকারই শেষ পর্যন্ত আশিকের সন্দেহ তৈরি করে এবং শুরু হয় ধাওয়া।

আটক ব্যক্তিদের স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আশিকের উদ্যোগে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত ৯টার দিকে জালালাবাদ থানা পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, ঘটনায় দুইজনকে আটক করে অপহরণ মামলা দেওয়া হয়েছে। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে আশিক বলেন, ‘ছেলেটা আমাদের কোনো ভাই-বোন বা পরিচিত কেউ হতে পারত।’ বিপদে পড়া অপরিচিত মানুষের পাশেও সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, রাতের যাত্রাপথে সামান্য অসতর্কতাও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে নির্জন এলাকায় সিএনজিতে চলাচলের সময় চালক, গন্তব্য এবং আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আশিক।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ