Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

মসজিদ ভাড়া নিয়ে জামায়াতের নারী কর্মীদের গোপন বৈঠক: এলাকাবাসীর প্রতিরোধ, প্রধান ফটকে তালা!

অনলাইন ডেস্ক, চেতনা একুশ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা মডেল মসজিদে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এবং প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই জামায়াত ইসলামীর নারী কর্মীদের নিয়ে গোপন প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও রাজনৈতিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার স্থানীয় চরম উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যাপক বেগ পেতে হয়।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টার পর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক ও মাইক্রোবাসযোগে জামায়াত ইসলামীর বিপুল সংখ্যক নারী কর্মী দামুড়হুদা মডেল মসজিদে এসে জড়ো হতে থাকেন। দুপুরে সাধারণ মুসল্লিরা যোহরের নামাজ আদায় করতে গেলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। একটি পবিত্র ধর্মীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে এভাবে রাজনৈতিক দলের গোপন কর্মকাণ্ড পরিচালনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।


মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বাজারের বিক্ষুব্ধ লোকজন এসে মসজিদের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ সময় ভেতরে আটকে পড়া জামায়াত কর্মী ও বাইরে অবস্থানরত উত্তেজিত জনতার মধ্যে দফায় দফায় ধস্তাধস্তি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মসজিদের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া নারী কর্মীদের উদ্ধার করে নিরাপদে বের করে দেয়।


ধর্মীয় উপাসনালয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের এই নজিরবিহীন ঘটনার পেছনে মসজিদের কেয়ারটেকারের প্রত্যক্ষ মদদ ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। দামুড়হুদা মডেল মসজিদের কেয়ারটেকার মো. শাহজাহান স্বীকার করেছেন যে, জামায়াতের স্থানীয় মহিলা কর্মীরা নারী প্রশিক্ষণের নাম করে তার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে একদিনের জন্য মসজিদটি ভাড়া নিয়েছিল। তবে এই অনৈতিক লেনদেন ও আয়োজনের বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) জানাননি।
এদিকে, দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মো. আবেদ উদ্ দৌলা রিটন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলেন, শনিবার দিনব্যাপী তাদের মহিলা জামায়াতের একটি সাধারণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।


অন্যদিকে, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল হাসান তনু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পবিত্র মডেল মসজিদে প্রায় ৩ থেকে ৪ শ জামায়াত কর্মী জড়ো হয়ে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। সরকারি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে একটি চিহ্নিত রাজনৈতিক দলের এমন রাষ্ট্রবিরোধী ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের খবর পেয়েই ধর্মপ্রাণ এলাকাবাসী তা প্রতিরোধ করতে যায়। এ সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে একপর্যায়ে জামায়াত কর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।”


এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে এমন কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রোগ্রামের ব্যাপারে কোনো পূর্ব তথ্য ছিল না।


পুরো বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মডেল মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি লাভলী ইয়াসমিন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেহেতু আমি এই মডেল মসজিদের সভাপতি, সেহেতু এত বড় একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নারীদের সমাগম এবং বিশাল আয়োজনের বিষয়ে আমাকে কেন জানানো হলো না, বা কেন প্রশাসন থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন মনে করা হলো না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

সরকারি নিয়ম ভঙ্গের দায়ে এবং অবৈধভাবে উপাসনালয় ভাড়া দেওয়ার কারণে মসজিদের বিতর্কিত কেয়ারটেকারকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে লিখিত কৈফিয়ত তলব করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে এবং স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ