Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

মিথ্যা রপ্তানি ও প্রণোদনা জালিয়াতি: ১১ কাস্টমস কর্মকর্তা কারাগারে


মিথ্যা রপ্তানি দেখিয়ে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং সরকারের প্রায় পৌনে ৪ কোটি টাকার নগদ প্রণোদনা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর মামলায় ১১ কাস্টমস কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রবিবার (১২ জুলাই) আসামিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোঃ শাহজাহান কবির তা নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


এর আগে আসামিরা হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়ে গত ১৬ এপ্রিল নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। আদালত তখন তাদের জামিন দিলেও আজ স্থায়ী জামিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে দুদক এর তীব্র বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।


কারাগারে যাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— কাস্টমস বিভাগের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর কবির ও মবিন উল ইসলাম, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. জয়নাল আবেদীন। এছাড়া রাজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— জমির হোসেন, এ এইচ এম নজরুল ইসলাম, আমির হোসেন সরকার, গৌরাঙ্গ চন্দ্র চৌধুরী, ফরিদ উদ্দিন সরকার, মো. মঞ্জুরুল হক এবং সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার ও বাসুদেব পালক।


‘দো এম্পেক্স লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কোনো পণ্য রপ্তানি না করেই জালিয়াতির আশ্রয় নেয়। কাগজ-কলমে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে পণ্য পাঠানো দেখায়, যেখানে এই কাস্টমস কর্মকর্তারা সরাসরি যোগসাজশ করেছিলেন।


প্রতিষ্ঠানটি মোট ৪১টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে সরকারের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে দেখা যায়, মাত্র ৭টি চালানের বিপরীতে কিছু কৃষি পণ্য রপ্তানি হলেও বাকি ৩৪টি চালানের বিপরীতে বাস্তবে কোনো পণ্যই বিদেশে পাঠানো হয়নি।


অথচ এই ভুয়া চালানের সূত্র ধরে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ২২ লাখ ১৮ হাজার ১৭ দশমিক ৪৪ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ ৯১ হাজার ৪০৪ টাকা) দেশে এনে পাচার করা হয়। একই সঙ্গে ভুয়ো রপ্তানি দেখিয়ে সরকারের ৩ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার টাকা নগদ প্রণোদনা তুলে আত্মসাৎ করা হয়।


এই নজিরবিহীন জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর ১১ কাস্টমস কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন।

প্রতিবেদক : এড্ নাসরিন বেগম

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ