
ক্রীড়া প্রতিবেদক: সিলেট
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উৎসবের আমেজ। বোলারদের পর এবার ব্যাটারদের রাজত্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে চালকের আসনে পুরোপুরি স্বাগতিকরাই। মুশফিকুর রহিমের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি এবং লিটন দাসের অনবদ্য ফিফটিতে ভর করে পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে টিম বাংলাদেশ। পাহাড় টপকাতে নেমে দিনশেষে কোনো রান না করেই মাঠ ছেড়েছে পাকিস্তান। ফলে চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ১০ উইকেট, আর সফরকারীদের সামনে ইতিহাস গড়ার অসম্ভব চ্যালেঞ্জ।
শান্ত’র বিদায়ের পর লিটন-মুশফিকের প্রতিরোধ
দিনের শুরুটা অবশ্য কিছুটা উদ্বেগের ছিল। আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটার ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (১৫) খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লুর শিকার হয়ে দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন। ১১৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন কিছুটা চাপে, তখনই দলের হাল ধরেন দুই অভিজ্ঞ সেনানী মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। পঞ্চম উইকেটে এই দুই ব্যাটারের প্রতিরোধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে বাংলাদেশের হাতে। প্রথম সেশনেই তারা পাকিস্তানি বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেন।
লিটনের ফিফটি ও মুশফিকের মাইলফলক
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি তুলে নেন লিটন দাস। ৬৭ বলে সাজানো তাঁর এই ইনিংসে ছিল দারুণ সব শটের মহড়া। অবশ্য ৫৫ রানে একবার জীবন পেলেও শেষ পর্যন্ত ৬৯ রান করে হাসান আলীর শিকার হন তিনি। লিটনের বিদায়ের পর মেহেদী হাসান মিরাজ (১১) দ্রুত ফিরে গেলেও উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকুর রহিম।
চা-বিরতির পর মোহাম্মদ আব্বাসের বলে বাউন্ডারি মেরে মুশফিক উদযাপন করেন তাঁর ক্যারিয়ারের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি। এই শতকের ওপর ভর করেই মুমিনুল হককে টপকে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান এখন মুশফিক। একই সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মহাকীর্তিও স্পর্শ করেন এই লিভিং লেজেন্ড।
পাহাড়সম লক্ষ্য ও পাকিস্তানের কঠিন পরীক্ষা
লোয়ার অর্ডারে তাইজুল ইসলামকে সাথে নিয়ে ৭৭ রানের আরেকটি চমৎকার জুটি গড়েন মুশফিক। তাইজুল ২২ রান করে বিদায় নেওয়ার পর শেষদিকে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে অলআউট হয় বাংলাদেশ। তবে আউট হওয়ার আগে মুশফিক খেলেন ১৩৭ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস। বাংলাদেশ তাঁদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান সংগ্রহ করলে প্রথম ইনিংসের লিডসহ পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩৭ রান।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এত রান তাড়া করে জেতার কোনো রেকর্ড নেই। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিনের শেষভাগে আলোর স্বল্পতার কারণে মাত্র দুই ওভার খেলতে পারে পাকিস্তান। তাসকিন ও শরীফুলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কোনো রান না করেই দিন শেষ করেছে তারা।
চতুর্থ দিনের সকালে প্রথম সেশনেই পাকিস্তানি শিবিরে আঘাত হেনে জয়ের ভিত আরও মজবুত করাই এখন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোরলাইন : বাংলাদেশ : ২৭৮ এবং ৩৯০ (মুশফিক ১৩৭, লিটন ৬৯, মাহমুদুল ৫২; খুররম ৪/৮৬, সাজিদ ৩/১২৬)।
পাকিস্তান: ২৩২ এবং ০/০।


