Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা; গণপিটুনিতে ঘাতকের মৃত্যু

নিহত মা ও ৩ মেয়ে


চেতনা একুশ ডেস্ক:


লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক নৃশংস ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একটি আবাসিক ভবনে প্রবেশ করে মা ও তার তিন কন্যাসন্তানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এক যুবক। নিহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক গভীর ও মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। হামলায় মেজো মেয়ের শারীরিক অবস্থা এতটাই ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল যে, তার ফুসফুস পর্যন্ত বাইরে বেরিয়ে আসে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে ঘাতক যুবকেরও মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।


এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তার তিন কন্যা সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিপা আক্তার (৮)। অন্যদিকে, গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (২৮)।

বেঁচে যাওয়া একমাত্র ছেলে


রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, ঘটনার পর আহত অবস্থায় পাঁচজনকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছিল। নিহত মা ও তার তিন কন্যাসন্তানের শরীরে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। বিশেষ করে মেজো মেয়ে ইকরার আঘাত ছিল অত্যন্ত বিভীষিকাময়, তার ফুসফুস পর্যন্ত বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছিল। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা প্রথমে শাহিনুর বেগম, বড় মেয়ে সায়মা ও ছোট মেয়ে শিপাকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেজো মেয়ে ইকরাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলেও পথিমধ্যে সে মারা যায়। অন্যদিকে, ঘাতক অন্তর মজুমদারের মাথায়ও গুরুতর আঘাত ছিল, সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের পর তার মৃত্যু ঘটে।


লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, ঘাতক অন্তর মজুমদার পূর্বে প্রায় দেড় বছর ওই ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে ছিল। আনুমানিক ৭-৮ মাস আগে সে বাসা পরিবর্তন করে চলে যায়। পূর্বপরিচিত হওয়ার সুবাদে সে অনায়াসে বাসায় প্রবেশ করে এই নৃশংসতা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি, রহস্য উন্মোচনে পুলিশি তদন্ত চলছে।


রায়পুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


এদিকে, এই ভয়ংকর ট্র্যাজেডিতে পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা সদস্য ছেলে সিফাত তার মা ও তিন বোনকে একসাথে হারিয়ে সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। তার এই বুকফাটা আর্তনাদে পুরো এলাকায় এক চরম শোকাবহ ও থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ