
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
দেশের স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ছয়টি জেলায় ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হওয়ার পর বছরের পর বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল অবিলম্বে চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালগুলো পড়ে থাকা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত এসব জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কেন অলস পড়ে থাকবে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বৈঠকের মূল সিদ্ধান্তসমূহ:
• পরিদর্শন ও প্রতিবেদন : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আগামী ২ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করতে হবে এবং এর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
• নির্দিষ্ট হাসপাতালসমূহ: রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও কুমিল্লার শিশু হাসপাতাল এবং সিলেট জেলা হাসপাতাল দ্রুত সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
• কুষ্টিয়া ও শাহবাগ : আংশিক চালু থাকা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রূপে (৫০০ শয্যা) রূপান্তর এবং রাজধানীর শাহবাগে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালসহ অন্যান্য বিশেষায়িত হাসপাতালগুলো দ্রুত চালুর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
• বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল : নীলফামারীতে প্রস্তাবিত ১০০০ শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের কাজ ত্বরান্বিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চীনা দূতাবাসকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, জনবল সংকট, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে এসব হাসপাতাল ভবনগুলো দীর্ঘকাল পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল, যার ফলে অনেক স্থানে চুরির ঘটনাও ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী নির্দেশনার ফলে দেশের শিশু স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে সরকারের এই কঠোর অবস্থান সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।


