
নিজস্ব প্রতিনিধি, চেতনা একুশ
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ডিমবাহী একটি ট্রাক উল্টে সড়কে ডিম ছড়িয়ে পড়ার পর সেগুলো কুড়াতে গিয়ে দ্রুতগতির একটি বাসের চাপায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মহাসড়কে অন্তত ছয়টি বাস ও ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেন।
নিহতরা হলেন ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী গ্রামের লিটন হোসেনের ছেলে জয়নাল হোসেন (৩০), আঞ্জু শেখের ছেলে ওবায়দুর শেখ (৪৫), বাবলু মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়া (৪২), নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের কুদ্দুস মাতুব্বরের ছেলে হাফিজুল মাতুব্বর (২৮) এবং বরগুনা সদর উপজেলার কোটবাড়িয়া ইউনিয়নের তুলশিবাড়িয়া গ্রামের সেলিম খানের ছেলে জালাল খান (৩৬)।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলালউদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহতদের ভাঙ্গা, ফরিদপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ডিমবোঝাই ট্রাকটি সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে বিপুল পরিমাণ ডিম মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় অনেকেই ডিম কুড়াতে সড়কে নেমে পড়েন। ঠিক সেই সময় ঢাকা থেকে নড়াইলগামী নড়াইল এক্সপ্রেসের একটি দ্রুতগতির বাস ডিম কুড়াতে থাকা লোকজনকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন এবং অন্তত সাতজন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী শুভ চক্রবর্তী জানান, মহাসড়কে ডিম কুড়াতে থাকা লোকজনের ওপর দিয়েই বাসটি চলে যায়। দুর্ঘটনার পরও বাসটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
এ ঘটনার জেরে স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে অন্তত ছয়টি বাস ও ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেন। একই সঙ্গে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের জানান, আহত ছয়জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।


