
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের কারামুক্তিতে এই মুহূর্তে আর কোনো আইনি জটিলতা রইল না। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সর্বশেষ দুটি হত্যা মামলাতেও উচ্চ আদালত থেকে জামিন মেলায় এই পথ সুগম হয়েছে।
আজ রোববার (১৭ মে) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই জামিন আদেশ প্রদান করেন। জামিন মঞ্জুরের পাশাপাশি আদালত এই বিষয়ে একটি রুলও জারি করেছেন।
আদালতে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, সাঈদ আহমেদ রাজা, মুস্তাফিজুর রহমান এবং মোনায়েম নবী শাহীন।
এর আগে, গত ১২ মে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত পৃথক দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। আজকের আদেশের পর তার আইনজীবী প্যানেল নিশ্চিত করেছেন যে, সবকটি মামলায় জামিন পাওয়ায় তার কারামুক্তিতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই। তবে হাইকোর্টের এই জামিন আদেশ স্থগিত করার আর্জি জানিয়ে গত বুধবার আপিল বিভাগে আবেদন দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন যুবদল কর্মী হত্যাকাণ্ড, তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পাঁচটি মামলায় আপিল বিভাগ তাঁর জামিন বহাল রেখেছিলেন।
তারও আগে, গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট জামিন সংক্রান্ত রুল মঞ্জুর করে চার মামলায় তাঁকে জামিন দেন। পরবর্তীতে ১১ মার্চ দুদকের মামলাটিতেও তিনি জামিন পান। রাষ্ট্রপক্ষ সেই জামিন স্থগিতের আবেদন জানালেও আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেন।
পরবর্তী সময়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা আরিফ হত্যা মামলা এবং আদাবর থানায় দায়ের করা রুবেল হত্যা মামলায় সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানান এবং গত ১২ মে ওই দুই মামলাতেও আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
প্রতিবেদক : এড্. নাসরিন বেগম


