Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

১১৬ অবৈধ জুয়ার সাইট বন্ধে বিটিআরসিকে সিআইডির চিঠি, গ্রেপ্তার ৮

প্রতিকী‌ ছবি

নিজস্ব প্রতিনিধি, চেতনা একুশ

দেশে সক্রিয় অবৈধ অনলাইন জুয়ার চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের অভ্যন্তরে পরিচালিত ১১৬টি অবৈধ জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপস অবিলম্বে বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা পাঠিয়েছে সংস্থাটি। একই সাথে জুয়া পরিচালনাকারী ৪টি সাইটের ৮ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, এই চক্রগুলো মাত্র ৪টি সাইট ব্যবহার করেই প্রতিদিন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দুই কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিচ্ছিল এবং সেই অর্থ হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করত।

আজ রবিবার (১৭ মে) রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট অনলাইন জুয়ার মরণনেশা প্রতিরোধে দেশজুড়ে নিয়মিত সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া বিশেষ সাইবার প্যাট্রলিংয়ের মাধ্যমে এই ১১৬টি ক্ষতিকর ওয়েবসাইট ও অ্যাপস শনাক্ত করা হয় এবং দ্রুত সেগুলো ডাউন করার জন্য বিটিআরসিকে অনুরোধ জানানো হয়।

শুধু সাইট বন্ধই নয়, জুয়ার অর্থনৈতিক লেনদেনের পথ বন্ধ করতেও জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে সিআইডি। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেনে জড়িত ৮৭৯টি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৪৩টি সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) সিআইডির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এদিকে জুয়া চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছে সিআইডির বিশেষ দল। গত ৬ মে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার নরসিংদীর পলাশ এবং রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় সিআইডি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কিশোরগঞ্জের আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী, আশরাফুল ইসলাম ও আব্দুর রহমান; ময়মনসিংহের জসীম উদ্দীন; নরসিংদীর তৈয়ব খান ও সৌমিক সাহা এবং লক্ষ্মীপুরের কামরুজ্জামান। এদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের প্রথম দুজন একটি নামী মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন, যা তারা এই অবৈধ ব্যবসায় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন।

সিআইডি প্রধান মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার এবং তা হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করার কথা স্বীকার করেছেন। এই চক্রের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সিআইডি প্রধান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, সিআইডি ইতিমধ্যেই বিএফআইইউ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চক্রের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেটগুলো শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও বহুল আলোচিত ‘এমটিএফই’ পঞ্জি স্কিমের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটি টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে অনন্য নজির স্থাপন করেছিল সিআইডি। ডিজিটাল অপরাধ দমনে সিআইডির এই কঠোর অভিযানকে সাধুবাদ জানাচ্ছে দেশের সচেতন মহল।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ