Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

২৫ বছর পূর্ণ না করে পদত্যাগ করলে মিলবে না পেনশন: আপিল বিভাগের রায়


চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ করার আগেই যদি কোনো সরকারি কর্মচারী পদত্যাগ করেন, তবে তিনি কোনোভাবেই পেনশন সুবিধা পাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। এক পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেছেন, আইনসভা অত্যন্ত প্রজ্ঞা ও যৌক্তিক বিবেচনার ভিত্তিতেই এই নিয়ম প্রণয়ন করেছে। ২৫ বছরের চাকরির নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ করার আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোনো রাষ্ট্রীয় পেনশন বা আনুষঙ্গিক সুবিধা দাবি করতে পারেন না।


হাইকোর্টের আগের একটি রায় বাতিল করে বিচারপতি মোঃ রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ এই রায় প্রদান করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ পাওয়া ২৮ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায়টি লিখেছেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।


মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে সহকারী বিচারক হিসেবে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগদান করেছিলেন মাহবুব মোরশেদ। দীর্ঘ ১৯ বছর চাকরি করার পর ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি তিনি অতিরিক্ত জেলা জজ পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। এরপর ২০১৫ সালে তিনি ১৯ বছরের চাকরিকাল হিসাব করে ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিকের দাবি জানিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।


তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, সরকারি চাকরি বিধিমালা (বিএসআর প্রথম খণ্ড, বিধি-৩০০) এবং ১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী— ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে পদত্যাগ করলে আগের চাকরিকাল পেনশনের জন্য গণনাযোগ্য হবে না। অর্থাৎ, তিনি কোনো পেনশন সুবিধা পাবেন না।


এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন মাহবুব মোরশেদ। সেই রিটের শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্ট তার পক্ষে রায় দেন এবং তাকে ৯০ দিনের মধ্যে পেনশন সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেন।


পরবর্তীতে এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়টিকে বাতিল ঘোষণা করে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক। অন্যদিকে রিট আবেদনকারী মোঃ মাহবুব মোরশেদ নিজেই নিজের পক্ষে আইনি লড়াই চালান।
আপিল বিভাগের এই চূড়ান্ত রায়ের পর মাহবুব মোরশেদ জানিয়েছেন, রায়ের সার্টিফাইড কপি হাতে পাওয়ার পর তিনি রিভিউ আবেদন করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

প্রতিবেদন: এড্ নাসরিন বেগম

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ