Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা পরিষ্কার চাই’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চরম আলটিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ:

রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগের বাস্তব চিত্র দেখতে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক পরিদর্শনে বের হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঘুরে দেখলেন শহরের বিভিন্ন এলাকা। আর পরিদর্শনে গিয়ে কোরবানির পশুর বর্জ্য এবং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও স্তূপ দেখে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকার প্রধান। দায়িত্বে এমন অবহেলা ও উদাসীনতা হাতেনাতে প্রমাণ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে দুই সিটি করপোরেশনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে ওএসডি (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত) করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সাথে শুরু হয়েছে বিভাগীয় শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া।


চেতনা একুশ-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, আকস্মিক এই পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে গাড়িতে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মৃধা এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম।


যেভাবে চলল চিরুনি অভিযান:
প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ করেই স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও দক্ষিণ সিটির প্রশাসককে তাঁর বাসভবনের সামনে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর সবাইকে চমকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের নিজেদের গাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন এবং তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে নেন। স্টিয়ারিং হুইল নিজের হাতে তুলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী একে একে হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট এবং কারওয়ান বাজার এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। বর্ষার ঠিক আগে এবং কোরবানির পরবর্তী সময়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে আবর্জনার স্তূপ দেখে তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অনতিবিলম্বে প্রশাসনিক অ্যাকশনে যাওয়ার নির্দেশ দেন।


অ্যাকশনের মুখোমুখি যারা:
প্রধানমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক নির্দেশে দায়িত্বে চরম অবহেলার দায়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজিরকে চাকরি থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এই ঝটিকা অভিযান প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমকে বলেন,

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকে যখন ওঁর গাড়িতে উঠতে বললেন, তখনো আমাদের বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না যে আমরা কোথায় যাচ্ছি বা কী হতে চলেছে। তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে পুরো এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রকৃত চিত্রটি সশরীরে তদারকি করলেন।”

কড়া হুঁশিয়ারি ও ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা:
এই আকস্মিক পরিদর্শনের পর নড়েচড়ে বসেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন প্রশাসন। দুই সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ডেকে পাঠিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। আগামী ৩০ ও ৩১ মে (শনিবার ও রবিবার)—এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার প্রতিটি আনাচে-কানাচে জমে থাকা সমস্ত ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, পানিনিষ্কাশনের সব পথ সচল এবং এডিস মশা তথা ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ওষুধ ছিটানোর চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।


সরকার প্রধানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস বা শিথিলতা বরদাশত করা হবে না। এই নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি রাজধানীর চিরচেনা রূপে দৃশ্যমান পরিবর্তন না আসে, তবে শুধু আঞ্চলিক কর্মকর্তা নয়, দুই সিটির আরও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এর চেয়েও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ