
২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নির্দেশে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইন’ সেবা চালু করে। পরবর্তীকালে হেল্পলাইন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে কোর্ট প্রশাসন ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইন সেন্টার উদ্বোধন করে।
উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও নথিপত্রের জটিলতা আর যোগাযোগের অভাবে প্রায় এক বছর কারাগারে বন্দি ছিলেন এক অসহায় আসামি। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করেন তার স্বজনরা। ফোন পেয়েই তৎপর হয়ে ওঠে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে জামিনের অনুলিপি কারাগারে পৌঁছালে অবসান ঘটে তার দীর্ঘ কারাবাসের। কেবল এই একটি ঘটনাই নয়, প্রতিদিন এমন অসংখ্য বিচারপ্রার্থী তাদের আইনি অধিকার ও সহায়তার জন্য বেছে নিচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের এই বিশেষ হেল্পলাইন সেবা।
সেবার শুরু ও পরিধি
২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নির্দেশনায় প্রথম এই সেবার যাত্রা শুরু হয় ২৬ সেপ্টেম্বর। পরবর্তীতে সেবাটিকে আরও গতিশীল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ‘সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইন সেন্টার’।
বর্তমানে আগের দুটি নম্বর ০১৩১৬-১৫৪২১৬ এবং ০১৭৯৫-৩৭৩৬৮০ (কল ও হোয়াটসঅ্যাপ)-এর পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে সংক্ষিপ্ত নম্বর ১০৩। সরকারি ছুটি ব্যতীত প্রতি রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই সেবা চালু থাকে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আদলে দেশের ৬৪টি জেলা আদালত এবং ৮টি মহানগর আদালতেও নিজস্ব হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।
যেসব সেবা মিলছে এখানে
সুপ্রিম কোর্টে এসে কোনো বিচারপ্রার্থী বা সেবাগ্রহীতা যদি কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন, তবে তিনি সরাসরি এই হেল্পলাইনে অভিযোগ জানাতে পারেন। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে:
- মামলার সর্বশেষ অবস্থা ও তথ্য জানা।
- প্রাথমিক আইনি পরামর্শ ও সাধারণ সহায়তা।
- নথি অনুসন্ধান ও হারিয়ে যাওয়া নথি উদ্ধার।
- কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, অনিয়ম বা বিলম্বে সেবাপ্রাপ্তির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল।
- দেশব্যাপী জেলা আদালতের তথ্যবিষয়ক স্থানীয় সহযোগিতা।
পরিসংখ্যান ও অভিযোগের চিত্র
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশ-বিদেশ থেকে আইনি পরামর্শ ও অভিযোগ সংক্রান্ত মোট ৬ হাজার ৯১২টি কল এসেছে। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই (১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল) কল এসেছে ২ হাজার ৯০৫টি। যার মধ্যে ৩১৭টি আইনি পরামর্শ এবং ৫০৪টি কল ছিল মামলার তথ্য সংক্রান্ত।
বিগত চার মাসে সুপ্রিম কোর্ট ও জেলা আদালতের বিভিন্ন অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে মোট ৫৮টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে বিলম্বে আইনি সেবাপ্রাপ্তি ও নথি নিখোঁজ সংক্রান্ত ৪৮টি অভিযোগেরই তাৎক্ষণিক সমাধান করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে। বাকি ১০টি অভিযোগের মধ্যে উচ্চ ও জেলা আদালতের বিচারক এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার-বহির্ভূত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বিরুদ্ধে আসা ৩৫৪টি কলের ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী জানান, সুপ্রিম কোর্টের হেল্পলাইন সেবাটি ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জনগণের সুবিধার্থে এই কার্যক্রমের পরিধি ও মান সময়ে সময়ে আরও উন্নত ও আধুনিক করা হবে।
প্রতিবেদক : নাসরিন বেগম


