বই দেখে বাউবি পরীক্ষা: ভিডিও করায় দুই সাংবাদিককে মারধর, ছিনিয়ে নেওয়া হয় মোবাইল ও ক্যামেরা সরঞ্জাম

অনলাইন ডেস্ক, চেতনা একুশ
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ডিগ্রি পরীক্ষায় বই দেখে লেখার অভিযোগের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত সাংবাদিকরা গাংনী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের দাবি, ৫০০ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে তারা কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রে যান। সেখানে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের বই খুলে উত্তর লিখতে দেখেন তারা। বিষয়টি মুঠোফোনে ভিডিও করার সময় কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লবসহ দুই শিক্ষক তাদের ওপর চড়াও হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে দুই সাংবাদিককে মারধর করা হয়। এ সময় তাদের কাছে থাকা দুটি মুঠোফোন এবং নাগরিক টেলিভিশনের বুম মাইক্রোফোনও নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। তবে কৌশলে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে তারা গাংনী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন বাংলাদেশ বেতার ও নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহমেদ এবং দৈনিক খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি তারেক হোসেন।
সাংবাদিক রাব্বি আহমেদ বলেন, ৫০০ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের উন্মুক্ত বই রেখে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েই তারা কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। সেখানে অভিযোগের সত্যতাও দেখতে পান। পরীক্ষার্থীদের বই দেখে উত্তর লেখার দৃশ্য ভিডিও করতে গেলে শিক্ষকরা তাদের ওপর হামলা চালান।
অপর সাংবাদিক তারেক হোসেন বলেন, পরীক্ষার্থীদের বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষকেরা তাদের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন। পরে একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ভিডিও ধারণের দুটি মুঠোফোন ও নাগরিক টেলিভিশনের বুম মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মেহেরপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সাংবাদিকদের দেওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা হবে। পাশাপাশি ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


