Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

ঢাকার অডিটোরিয়ামে গ্রামবাংলার আবহ — ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ নিয়ে ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

ঢাকার একটি আধুনিক কনভেনশন হল যেন হঠাৎই বদলে গিয়েছিল গ্রামবাংলার এক জীবন্ত ছবিতে। কোথাও নদীতে পানি তুলতে নামছেন নারীরা, কোথাও মাঠে ধান কাটছেন কৃষক, আবার কোথাও বিয়ের শোভাযাত্রায় দুলছে পালকি। কয়েক ঘণ্টার জন্য নগরজীবনের কোলাহল ছাপিয়ে এক অনন্য গ্রামীণ আবহ তৈরি হয়েছিল রাজধানীর বুকে।

গত ১৭ এপ্রিল আলোকি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত হয় “মায়া বেঙ্গল ইন মোশন”। এটি ছিল তৃতীয় আয়োজন, যেখানে শ্রদ্ধা জানানো হয় পল্লীকবি জসীমউদ্দীন এবং তাঁর কালজয়ী কাব্য ‘নকশী কাঁথার মাঠ’-কে। আয়োজনটি যৌথভাবে করে এমডব্লিউ ম্যাগাজিন বাংলাদেশ এবং স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের প্রাকৃতিক সুস্থতা ব্র্যান্ড ‘মায়া’।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন এমডব্লিউ ম্যাগাজিন বাংলাদেশের সম্পাদক ও প্রকাশক রুমানা চৌধুরী এবং স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মালিক মোহাম্মদ সাইয়েদ।

সাইয়েদ তাঁর বক্তব্যে দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে ‘মায়া’র অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।তারিখ নির্বাচনেও ছিল বিশেষ তাৎপর্য। ১৭ এপ্রিল আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবসের পাশাপাশি পল্লীকবির ১২৩তম জন্মবার্ষিকী। এই উপলক্ষে মঞ্চে তুলে ধরা হয় রূপাই ও সাজুর হৃদয়ছোঁয়া প্রেমকাহিনী—যেখানে বিচ্ছেদ, বেদনা ও অপেক্ষার মিশেলে ফুটে ওঠে গ্রাম-বাংলার চিরচেনা জীবনচিত্র।

উল্লেখ্য, এই কাব্যটি বিশ্বের নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং ১৯৫৯ সালে বুলবুল ললিতকলা একাডেমি প্রথম এটিকে নৃত্যনাট্য হিসেবে মঞ্চায়ন করে।অনুষ্ঠান শুরুর আগেই দর্শকদের জন্য তৈরি করা হয় এক অনন্য পরিবেশ। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নকশী কাঁথা দিয়ে সাজানো হয় পুরো হলঘর।

পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের জীবনের নানা মুহূর্ত ধারণ করা আলোকচিত্র এবং তাঁর কবিতার পঙ্‌ক্তি ছড়িয়ে ছিল চারপাশে। সব মিলিয়ে যেন শেকড়ে ফেরার এক নীরব আহ্বান। অডিটোরিয়ামের বাইরে বসে তিনজন নারী মনোযোগ দিয়ে কাঁথা সেলাই করছিলেন। একটি কাঁথা সম্পূর্ণ করতে সময় লাগে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস। সংসারের কাজ, সন্তান লালন-পালনের ফাঁকে গ্রামীণ নারীরা এই শিল্পকর্মে প্রাণ সঞ্চার করেন। প্রবেশমুখে বসে তাঁদের নিঃশব্দ শ্রম যেন সন্ধ্যার অন্যতম আবেগঘন দৃশ্য হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানটির নৃত্যনাট্য অংশ পরিকল্পনা করেন আনিসুল ইসলাম হিরো। এতে অংশ নেন প্রখ্যাত শিল্পী শামীম আরা নীপা, শিবলী মোহাম্মদ এবং নৃত্যাঞ্চল। লোকনৃত্য, সঙ্গীত ও অভিনয়ের সমন্বয়ে তাঁরা মঞ্চে জীবন্ত করে তোলেন বাংলার চিরন্তন গ্রামীণ জীবন।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উপলক্ষে আগামী ২৯ এপ্রিল এই পরিবেশনাটি সম্প্রচারিত হবে মাছরাঙা টেলিভিশনে।

রিপোর্ট : এড্. নাসরিন বেগম

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ