Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাবনীয় সাফল্য : জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিনিধি । চেতনা একুশ

টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। নিজস্ব ক্যাম্পাসের ভবনের ছাদে স্থাপিত সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে একদিকে যেমন জাতীয় গ্রিডে অবদান রাখছে বিশ্ববিদ্যালয়টি, অন্যদিকে সাশ্রয় করছে লাখ লাখ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে রবীন্দ্র-নজরুল ও বিবিএ ভবনসহ বেশ কিছু একাডেমিক ভবনের ছাদে ২০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই সোলার পিভি প্যানেল স্থাপন করা হয়। ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করছে। গ্রিড-টাইড এই সিস্টেমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজস্ব প্রয়োজন মিটিয়ে অতিরিক্ত অংশ চলে যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে এই সোলার প্যানেল থেকে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮৩ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৭৩ কিলোওয়াট ব্যবহার করেছে এবং বাকি ৩৪ হাজার ৭১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এর ফলে গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫ লাখ ২৪ হাজার ৬৭৬ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই সোলার প্যানেলগুলো অন্তত ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। এটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি-৭ (সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি) অর্জনে দারুণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান বিদ্যুৎ চাহিদা ২.৫ মেগাওয়াট। ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসের পুরাতন ও নতুন সব ভবনের অব্যবহৃত ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে এই সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক নওয়াব আলী এবং প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম শরীফ উদ্দিন এই সাফল্যকে জ্বালানি সংকটের সময়ে একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবহারে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ