
নিজস্ব প্রতিবেদক । চেতনা একুশ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বহুল আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ড’ আবারও সামনে এসেছে অডিট প্রতিবেদনে। মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের অডিট রিপোর্ট উপস্থাপনকালে এই দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ৩৮টি রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রূপপুর প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক ভবনের জন্য আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছিল। বিশেষ করে একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা, আর সেটি খাটে তোলার জন্য মজুরি দেখানো হয় ৭৬০ টাকা, যা সাধারণভাবে অবিশ্বাস্য।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এমন দামের বালিশ হলে সেটি জাদুঘরে রাখা উচিত।
অডিটে আরও উঠে আসে, ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূল্য দেখানো হয়েছে। যেমন- কমফোর্টারের দাম ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা, যেখানে বাজারমূল্য সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ হাজার টাকার মধ্যে। একইভাবে বিদেশি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে প্রায় ৬ হাজার টাকায়, যা বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি।প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, এসব প্রতিবেদনের মাধ্যমে সরকারি ব্যয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।
এদিকে একই দিনে পিরোজপুর জেলার সড়ক অবকাঠামো নিয়েও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দ্রুত বেহাল সড়কগুলো সংস্কার করে জনদুর্ভোগ কমানোর নির্দেশ দেন। বৈঠকে জানানো হয়, আগের সরকারের সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে তৎকালীন সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। দীর্ঘদিন অবহেলিত সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


