
আসন্ন ঈদুল আজহা কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে রাজধানীতে। প্রতিবারের মতো এবারও নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা আর কোরবানির প্রস্তুতি ঘিরে ব্যস্ততা বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ২৮টি পশুর হাট বসানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে গাবতলীর স্থায়ী হাটসহ উত্তর সিটিতে ১৬টি এবং দক্ষিণ সিটিতে ১২টি হাট বসবে।
এবারের হাট ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা দিচ্ছে ইজারা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে হাট বরাদ্দ দিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দুই সিটি কর্তৃপক্ষ।
উত্তর সিটি : তিন ধাপে উন্মুক্ত টেন্ডার :
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, কোনো ধরনের গোপনীয়তা নয়, বরং সবার সামনেই টেন্ডার বক্স খোলা হচ্ছে। তিনি বলেন –
• আমরা ইজারা প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখছি।
• তিন ধাপে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে যাতে সবাই অংশ নেওয়ার সমান সুযোগ পায়।
• ১০টি হাটের কাজ ইতিমধ্যে শেষ, বাকিগুলোও দ্রুতই চূড়ান্ত হবে।”
দক্ষিণ সিটি : সীমানা নির্ধারণে কড়াকড়ি, অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মোঃ আব্দুস সালাম স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে,
• রাজনৈতিক পরিচয়ে হাট পাওয়ার দিন শেষ।
• সবগুলো অস্থায়ী হাটের ইজারা ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
• নির্ধারিত সময়ের আগে কোনোভাবেই হাট বসানো যাবে না।
• রাস্তাঘাট সচল রাখতে হাটের জন্য নির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে গেলেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষের এমন কঠোর অবস্থানে এবার কোরবানির পশুর হাটগুলো আরও সুশৃঙ্খল এবং সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইজারা প্রক্রিয়ায় এই স্বচ্ছতা বজায় থাকলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশেই কমে আসবে।
রিপোর্ট : নাসরিন বেগম


