Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

টাইগারদের ঐতিহাসিক জয়: পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে লাল-সবুজের গর্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

রাওয়ালপিন্ডির সেই অবিস্মরণীয় স্মৃতি এবার মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে ফিরিয়ে আনল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে আতিথেয়তা দিয়ে স্রেফ হারিয়েই দেয়নি, বরং ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়ে এক নতুন ইতিহাস রচনা করল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এর আগে ২০১৫ সালে খুলনায় ড্র করাই ছিল দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে আমাদের সেরা সাফল্য। তবে ২০২৬ সালের এই ১২ই মে চিরচেনা মিরপুরে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে প্রথম টেস্ট জয়ের লাল-সবুজ উৎসব।

নাহিদ রানার আগুনে বোলিং ও জয়ের রূপরেখা

২৬৮ রানের জয়ের লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামা পাকিস্তান শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে। বিশেষ করে তরুণ পেসার নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি সফরকারীরা। ক্যারিয়ারের প্রথম ‘ফাইফার’ বা পাঁচ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ধসিয়ে দেন তিনি। মাত্র ৪০ রানে নাহিদ তুলে নেন ৫টি উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামের জোড়া আঘাতে শেষ পর্যন্ত ১৬৩ রানেই থমকে যায় শান মাসুদের দল। পাকিস্তানের পক্ষে আব্দুল্লাহ ফজল সর্বোচ্চ ৬৬ রান করলেও অন্য কেউ সেভাবে প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। এক পর্যায়ে সফরকারীরা তাদের শেষ ৭টি উইকেট হারায় মাত্র ৪৪ রানের ব্যবধানে।

অধিনায়কের ব্যাটে লড়াকু পুঁজি

এর আগে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত প্রথম ইনিংসের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, ৮৭ রানের এক নান্দনিক ইনিংস খেলে তিনি সাজঘরে ফেরেন। এছাড়া মুমিনুল হকের ৫৬ এবং শেষ দিকে মিরাজ ও তাসকিনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ফলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড :

• বাংলাদেশ: ১ম ইনিংস ৪১৩ ও ২য় ইনিংস ২৪০/৯ ডিক্লে. (শান্ত ৮৭, মুমিনুল ৫৬)

• পাকিস্তান: ১ম ইনিংস ৩৮৬ ও ২য় ইনিংস ১৬৩ (নাহিদ রানা ৫/৪০)

ফলাফল : বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা: নাজমুল হোসেন শান্ত।

এই দাপুটে জয়ের মধ্য দিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। মিরপুরের গ্যালারিতে এখন কেবলই বিজয়ের উল্লাস, আর সামনে ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ করার হাতছানি।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ