
চেতনা একুশ ডেস্ক:
বিশ্ব প্রযুক্তির মহোৎসবে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোডিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবটিকস প্রতিযোগিতা ‘কোডেভার ৭.০ ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’-এ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
১৭ মে (রবিবার) ঘোষিত ফলাফলে ২০টিরও বেশি দেশকে পেছনে ফেলে অনন্য এক ইতিহাস রচনা করেন বাংলাদেশের তরুণ উদ্ভাবক মুহতাসিম রহমান ভূঁইয়া এবং তার দল। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) স্কুল ও কলেজের এই অদম্য শিক্ষার্থীরা বিশ্বমঞ্চে দেশের লাল-সবুজ পতাকাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
২০ দেশের কঠিন লড়াইয়ে শীর্ষস্থানে বাংলাদেশ
বর্তমান বিশ্বের স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রযুক্তিভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হলো ‘কোডেভার ৭.০’। তরুণ প্রজন্মকে কোডিং, রোবটিকস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে বাস্তব জীবনের জটিল সব সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান খোঁজার লক্ষ্য নিয়েই এই আন্তর্জাতিক আসরের আয়োজন করা হয়।
এবারের গ্র্যান্ড ফিনালেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রযুক্তিতে উন্নত বিশ্বের শীর্ষ ২০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা সেরা মেধার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জাকার্তার মূল পর্বের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আসরে বিচারকদের মুগ্ধ করে সবাইকে ছাড়িয়ে প্রথম স্থান ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশের মুহতাসিম ও তার দল। তাদের এই অবিস্মরণীয় জয় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মেধার এক উজ্জ্বল স্বাক্ষর।
গ্যালারিতে অভিভাবক ও অধ্যক্ষের অকুণ্ঠ সমর্থন
সুদূর ইন্দোনেশিয়ার মাটিতে যখন দেশের কিশোররা এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ে অবতীর্ণ, তখন তাদের সাহস ও প্রেরণা জোগাতে ভেন্যুতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল ও কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ এবং প্রতিযোগীদের অভিভাবকবৃন্দ। গ্যালারি থেকে তাদের সার্বক্ষণিক সমর্থন ও ভালোবাসায় দারুণভাবে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে আমাদের তরুণ উদ্ভাবকরা।
এই গৌরবময় মুহূর্তে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবুল হোসেন সুমন হায়াত আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “এটি কেবল আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক ও পরম গর্বের দিন। ২০টি দেশের সাথে লড়াই করে আমাদের শিক্ষার্থীরা যখন বিশ্বমঞ্চে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেশের পতাকা উঁচিয়ে ধরল, তখন আনন্দের অশ্রু ধরে রাখা সম্ভব ছিল না।”
প্রযুক্তির আগামীর নাম বাংলাদেশ
বিশ্বজয়ের এই অভাবনীয় সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক সুযোগ ও উপযুক্ত নির্দেশনা পেলে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তির যেকোনো শীর্ষ শিখর স্পর্শ করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এই ঐতিহাসিক অর্জন দেশের স্কুল পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে কোডিং, রোবটিকস এবং এআই শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও উদ্দীপনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
বিশ্বজয়ী এই বীর সন্তানদের দেশে ফেরার পর এক জমকালো ও আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। বাংলার তরুণদের এই বিশ্বজয় আগামী দিনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।


