
চেতনা একুশ ডেস্ক:
দেশকে সাধারণ মানুষ ও সৈনিকদের স্বপ্নের মতো করে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও যার যার অবস্থান থেকে সঠিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই একটি ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ সম্ভব।
আজ পবিত্র ঈদুল আযহার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে অফিসার ও সৈনিকদের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
দীর্ঘ প্রবাস জীবনের স্মৃতি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি বহু বছর দেশে থাকতে পারিনি। কেন পারিনি, সেই রাজনৈতিক প্রসঙ্গে আজ যাচ্ছি না। তবে সেই সময়ে দেশের পরিস্থিতি কেমন ছিল, ভালো-মন্দ কী হয়েছে—তা নিয়ে সবারই কমবেশি ধারণা আছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য এখন দেশকে একটি অনন্য ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।”
অনুষ্ঠানে দেশমাতৃকার সুরক্ষায় নিয়োজিত সেনা সদস্যদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। ঈদের এই আনন্দের দিনেও যারা ছুটির আনন্দ বিসর্জন দিয়ে দেশের সেবায় নিয়োজিত আছেন, তাদের এই আত্মত্যাগকে জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সাথে কয়েক মাস আগে দুটি পত্রিকা অফিসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১৮ জন সাংবাদিককে উদ্ধারের heroic ভূমিকার জন্য সেনা সদস্যদের বিশেষ প্রশংসা করেন এবং তাদের পেশাদারিত্বকে সাফল্যের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।
এবারের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য ছিল এক আবেগঘন মুহূর্ত। বক্তব্যের শুরুতে তিনি ঢাকা সেনানিবাসে কাটানো তাঁর শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতি রোমন্থন করেন। পঁচাত্তর-ছিয়াত্তর সালের স্মৃতি হাতড়ে সিএমএইচের পুরনো প্যাথোলজি বিভাগ, স্টাফ সার্জনের টিনের ঘর, কিংবা বন্ধুদের সাথে বিকেলে ৭/৮টি সাইকেল নিয়ে শহীদ মইনুল সড়কের বাসা থেকে সেনানিবাসের অলিগলিতে ঘুরে বেড়ানোর দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন তিনি। তৎকালীন সাদা চুনকাম করা মসজিদ আর আজকের আধুনিক সেনানিবাসের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এই মাটির সাথে তাঁর জীবনের সুখ-দুঃখ ও বেড়ে ওঠার এক বিশাল স্মৃতি জড়িয়ে আছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাসের কর্মকর্তা, সৈনিক এবং তাদের সন্তানদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। প্রীতিভোজ শেষে তিনি ‘পঁচিশ মৃত্যুঞ্জয়ী’ ভবনের সামনে একটি স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।


