
প্রতিবেদক : নাসরিন বেগম
চেতনা একুশ ডেস্ক: বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টায় বার কাউন্সিল ভবনে নবগঠিত এডহক কমিটির প্রথম সভাটি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত সবার সর্বসম্মতিক্রমে সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনকে বার কাউন্সিলের নতুন ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। একই সাথে বার কাউন্সিলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানও মনোনীত করা হয়েছে।
উক্ত সভায় শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী ও কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার, সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ এইচ এম মুশফিকুর রহমান তুহিন, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট তাহমিনা বেগম সন্ধ্যা, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, অ্যাডভোকেট মো. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আলী আসগর, অ্যাডভোকেট সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান মিলন।
গুরুত্বপূর্ণ কমিটি ও দায়িত্বে যারা:
সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর বিভিন্ন উপ-কমিটির চেয়ারম্যানদের নাম ঘোষণা করা হয়।
এক্সিকিউটিভ কমিটি: চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল।
ফাইন্যান্স কমিটি: চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এ এইচ এম মুশফিকুর রহমান তুহিন।
লিগ্যাল এডুকেশন কমিটি: প্রধান হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী।
ল’ রিফর্ম কমিটি: চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন মাহফুজুর রহমান মিলন।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লিগ্যাল এইড কমিটি: এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাসুদ আহমেদ তালুকদারকে।
হাউজ কমিটি: চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ হোসেন লিপু।
রিলিফ কমিটি: দায়িত্ব পেয়েছেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
রোল অ্যান্ড পাবলিকেশন কমিটি: চেয়ারম্যান হয়েছেন মোহাম্মদ শিশির মনির।
কমপ্লেইন্ট অ্যান্ড ভিজিলেন্স কমিটি: এই বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে নাসির উদ্দিন অসীমের ওপর।
আধুনিক ও সেবামুখী করার প্রত্যয়:নবগঠিত কমিটির এই প্রথম বৈঠকে বার কাউন্সিলকে আরও গতিশীল, আধুনিক এবং পুরোপুরি সেবামুখী একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “বার কাউন্সিলকে আমরা কেবল একটি সাধারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এটিকে সাধারণ ও পেশাদার আইনজীবীদের আস্থার এক অনন্য, আধুনিক ও গতিশীল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা। আর এই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় সকল সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।”
আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নবগঠিত এই এডহক কমিটির প্রথম বৈঠকের মধ্য দিয়ে বার কাউন্সিলের ভবিষ্যৎ পথচলার একটি ইতিবাচক দিকনির্দেশনা তৈরি হলো। এখন দেখার বিষয়, সাধারণ আইনজীবীদের ভাগ্যেন্নয়নে এবং প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে সভায় নেওয়া এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তগুলো কত দ্রুত ও সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।


