Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের‌ জেরে ঘরে-বাইরে কোণঠাসা বিতর্কিত জামায়াত এমপি নজরুল

চেতনা একুশ রিপোর্ট:


নারীঘটিত বিতর্কিত কাণ্ড ও নানা অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর আরও চরম বিপাকে পড়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। একের পর এক নতুন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বেরিয়ে আসছে নিত্যনতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য।


সর্বশেষ প্রকাশিত একটি সিসিটিভি ফুটেজে সত্তরোর্ধ্ব এই সংসদ সদস্যকে এক নারীর সাথে হোটেলের রিসিপশন, করিডোর, লবি, লিফট ও সিঁড়িঘরে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও ব্যক্তিগত জীবনে নৈতিকতাহীন এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সারাদেশেই তাকে নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। দলীয় পদ হারানোর পর ঘরে ও বাইরে চতুর্মুখী চাপে পড়ে বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।


এদিকে, সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। উক্ত মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম এবং আমিনুর রহমানসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—মাসুম বিল্লাহ, মোতাসসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসান।


সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর গাজী নজরুলের নির্বাচনী এলাকা শ্যামনগরে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শ্যামনগর প্রেস ক্লাব চত্বরে ‘সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা নৈতিকতা হারিয়ে ফেলা এই এমপির অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি জানান।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, মরিয়াম বেগম নামের এক নারীর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং বিষয়টি গোপন রাখতে মরিয়ামের বাবা মাসুম বিল্লাহকে বড় ধরনের সুবিধা দেওয়ার লোভ দেখানো হয়েছিল। মাসুম বিল্লাহকে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দিয়ে সরকারি বড় বড় কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং কোটিপতি বানিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেন গাজী নজরুল।


গণমাধ্যমে উঠে আসা সাবেক গাড়িচালক ওবায়দুরের ভাষ্য অনুযায়ী, এমপি গাজী নজরুল সম্পর্কে মরিয়ামের বাবা মাসুম বিল্লাহর খালু হন। সে হিসেবে সম্পর্কটি দূরসম্পর্কের নাতনির। কেবল আর্থিক লাভের আশায় মরিয়ামের পরিবার এই অনৈতিক বিষয়ে চুপ ছিল। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা প্রকৌশল ও এলজিইডির বিভিন্ন দরপত্রে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি মরিয়ামকে জাতীয় সংসদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়।


বহিষ্কার, আইনি মামলা আর সর্বস্তরের জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া এই সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ