
অনলাইন ডেস্ক , চেতনা একুশ
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাওনিয়ার বেজে গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বায়েকের সার্ভার রুমসহ সংলগ্ন একাধিক কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে কম্পিউটার, এসি, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভস্মীভূত হয়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর পরই পাওনিয়ার বেজসহ পার্শ্ববর্তী দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে পুরো প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঘটনার প্রায় ৪৩ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার পরও প্রকল্পের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বায়েকের পাওনিয়ার বেজের সার্ভার রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে ঘন ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশের কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) ও বায়েকের বিভিন্ন কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম পানির সংকট দেখা দিয়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানির অভাবেই প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী জানান, গভীর রাতে আগুন লাগার খবর পেয়েই তারা দ্রুত সেখানে উপস্থিত হন এবং ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষেই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও উৎস নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই তাদের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুনে কার্যালয়ের বেশ কিছু কম্পিউটার, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও সার্ভার যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট আর্থিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তিগত সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বিদ্যুৎ প্রকল্পের সার্বিক স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সার্ভার রুম পুড়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ডিজিটাল নথি ও প্রযুক্তিগত যন্ত্রাংশের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. কবীর হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


