
নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রচলিত অর্থে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান। তিনি বলেন, ভূমি ও ফ্ল্যাটের প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয়মূল্য প্রকাশে উৎসাহ দিতে সীমিত পরিসরে একটি কর-সুবিধা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা নিয়ে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) দাবি করেছিল, প্রস্তাবিত বাজেটে পরোক্ষভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এ ধরনের বিধানকে সমর্থনযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক কালো টাকা সংক্রান্ত বিতর্কের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমি ও ফ্ল্যাটের প্রকৃত লেনদেনমূল্য এবং নিবন্ধনমূল্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান বিদ্যমান। ফলে অনেক বৈধ লেনদেনও কর-সংক্রান্ত জটিলতার মুখে পড়ে।
তিনি জানান, গত অর্থবছর থেকেই বিক্রেতাদের জন্য একটি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর আওতায় ব্যাংকিং চ্যানেল ও প্রয়োজনীয় দলিলের মাধ্যমে প্রকৃত লেনদেন প্রমাণ করা গেলে নিয়মিত কর এবং ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা কর পরিশোধ করে সেই অর্থ বৈধভাবে প্রদর্শনের সুযোগ পাওয়া যায়।
এবারের বাজেটে একই ধরনের সুযোগ ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার মতে, অনেক সময় ক্রেতারা প্রকৃত মূল্যে সম্পদ কিনলেও নিবন্ধনের সময় কম মূল্য দেখানো হয়। পরে কর কর্তৃপক্ষ প্রকৃত তথ্য পেলে অতিরিক্ত কর ও জরিমানার সম্মুখীন হতে হয়।
এই পরিস্থিতি নিরসনে নতুন বিধানের মাধ্যমে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রকৃত লেনদেনমূল্য ঘোষণা করলে নির্ধারিত হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করে তা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।
তবে এ বিষয়ে যদি আপত্তি বা বিতর্ক দেখা দেয়, তাহলে সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
একই প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মৌজা রেট এবং বাস্তব বাজারমূল্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় এ ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি জানান, মৌজা রেটকে বাজারমূল্যের কাছাকাছি নিয়ে আসার উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি জরিপের মাধ্যমে দেশের ভূমিমূল্য কাঠামো হালনাগাদ করা হবে।
অর্থমন্ত্রীর মতে, মৌজা রেট বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা গেলে লেনদেনমূল্য গোপনের প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে বিতর্কিত কর-সুবিধার প্রয়োজনীয়তাও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।


