
নিজস্ব প্রতিবেদক, পার্বতীপুর
দুই দিনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখল দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়েছে। উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ সরাসরি যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে, যা এই অঞ্চলের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক এই সুসংবাদটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রথম ইউনিট থেকে বর্তমানে ৫৫-৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই ইউনিটটি সচল হওয়ায় উত্তরাঞ্চলে চলমান লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকটাই কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ত্রুটির নেপথ্যে যা ছিল:
গত বুধবার রাত ১০টার দিকে কারিগরি বিভ্রাটের কারণে আকস্মিকভাবে এই ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কয়লার সঙ্গে পাথর আসায় ১ নম্বর ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে যায় এবং কুলিং ফ্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রকৌশলীদের নিরলস প্রচেষ্টায় দ্রুত মেরামত কাজ সম্পন্ন করে ইউনিটটিকে আবার সচল করা সম্ভব হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই ইউনিটটি সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন পড়ে।
বর্তমান অবস্থা : ২০০৬ সালে খনি সংলগ্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে এবং ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকেই অচল।
এমন পরিস্থিতিতে প্রথম ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে ফেরায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে থাকা সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। জাতীয় গ্রিডে এই নতুন সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


