Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ১০ লাখ টাকা ঋণ দিবে সরকার: বাজেট ২০২৬-২৭ এ শিক্ষার্থীদের জন্য যুগান্তকারী ঘোষণা

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী


বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে বিশেষ শিক্ষাবৃত্তির সমমানের ঋণ সুবিধা দেওয়ার ঐতিহাসিক প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।


জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব এখন সম্পূর্ণ মেধা ও দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। আমাদের তরুণ প্রজন্ম কেবল প্রথাগত শিক্ষার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে যেন আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হতে পারে, সেটাই সরকারের মূল লক্ষ্য। কিন্তু বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার বিপুল খরচের জোগান দিতে গিয়ে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী থমকে যান। তাদের সেই আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতেই সরকার ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এই সহজ শর্তের ঋণ সুবিধা চালুর যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে।


ভাষা শিক্ষায় অগ্রাধিকার ও নতুন দিগন্ত :
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় কোনো বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনকারীরা এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন। এই উদ্দেশ্যে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শিক্ষার বিশেষ কোর্স চালুর এক দূরদর্শী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব ভাষা শিখে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এই ১০ লাখ টাকার ঋণ সুবিধা পাবেন।


হয়রানিমুক্ত সহজ ঋণ :
অর্থমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, শিক্ষার্থীরা ব্যাংকের মাধ্যমে অত্যন্ত কম সুদে এই ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশের পর তারা এই ঋণ পরিশোধের সুযোগ পাবেন। এই ঋণ প্রাপ্তিতে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের প্রশাসনিক হয়রানি বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার শিকার না হন, সরকার তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করবে।


‘ব্রেইন ড্রেন’ নয়, লক্ষ্য ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’ :
মেধাবীদের বিদেশে পাঠানোকে সরকার মেধা পাচার বা ‘ব্রেইন ড্রেন’ হিসেবে দেখছে না; বরং একে ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’ বা মেধার আন্তর্জাতিক আবর্তন হিসেবে বিবেচনা করছে। বাজেট বক্তৃতায় আশা প্রকাশ করা হয়, বিদেশে অর্জিত উন্নত জ্ঞান, অনন্য দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা একসময় দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেই কাজে লাগবে। পাশাপাশি, প্রবাসে যোগ্য কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে এক নতুন জোয়ার আসবে।


শিক্ষা ও মানবসম্পদ খাতে বিশাল বরাদ্দ :
এবারের বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে রেকর্ড ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা খাতের ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই এই সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষ করে গড়ে তুলতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার এই ঋণ সুবিধা মূলত যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করার মহাপরিকল্পনারই একটি অনন্য অংশ।


স্মার্ট ক্লাসরুম ও ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’:
শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে প্রস্তাবিত বাজেটে স্কুল ও কলেজগুলোতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির মতো এক অভিনব ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি হাই-স্পিড ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে, যার মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা উপকরণের নাগাল পাবেন এবং বিদেশের বিভিন্ন কোর্সে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

রিপোর্ট: নাসরিন বেগম,

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ