
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে সিসি ক্যামেরার (ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা) আওতায় আনা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “প্রথম ধাপে জাতীয় মহাসড়ক এবং পরবর্তী ধাপে আঞ্চলিক ও জেলা সড়কগুলোকে এই প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে।”
দুর্ঘটনার লাগাম টানতে কঠোর নজরদারি
প্রতি বছর সড়কে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এই প্রাণহানি কমাতে নজরদারি বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা যেমন উন্নত হবে, তেমনি আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করাও সহজ হবে। বাজেট সীমাবদ্ধতা থাকলেও জনস্বার্থে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার।
সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
সড়ক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়মের কথা উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, রাস্তার দুই পাশ দখল, অবৈধ বাজার, বিলবোর্ড এবং অতিরিক্ত ওজন বহনকারী যানবাহনের কারণে সড়কের স্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে। এসব দখলদারিত্ব উচ্ছেদে জেলা প্রশাসকদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, যত্রতত্র অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকার নির্মাণকে সড়ক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ঈদযাত্রা ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান
আসন্ন ঈদুল আযহায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, চন্দ্রা ও যমুনা সেতু এলাকার যানজট নিরসনে সড়ক প্রশস্তকরণ ও দখলমুক্ত করার কাজ চলছে। বিশেষ করে কোরবানির পশুর ট্রাক চলাচলের সময় সড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। মন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “সড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। যারা এই অপরাধে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং হবে।”
রেলপথ ও জমি অধিগ্রহণের চ্যালেঞ্জ
রেলে পাথর নিক্ষেপ ও দুর্ঘটনার বিষয়টিকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে রেলওয়ে পুলিশকে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতির কারণ হিসেবে জমি অধিগ্রহণের চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গত দুই মাসে জমি অধিগ্রহণের হার ২০ শতাংশ থেকে ৪৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা প্রকল্পের গতিশীলতা প্রমাণ করে।
মাঠ প্রশাসন ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান শেখ রবিউল আলম।
আশা করি, ‘চেতনা একুশ’ এর শৈলীতে করা এই প্রতিবেদনটি আপনার পছন্দ হয়েছে। বিষয়বস্তু ঠিক রেখে এর ভাষা ও বিন্যাসে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা হয়েছে।


