Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

রাষ্ট্র পুনর্গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ

দেশের তরুণ সমাজকে রাষ্ট্র ও দেশ পুনর্গঠনে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, তরুণ সমাজ চাইলে একটি দেশকে পরিবর্তন করা সম্ভব। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণ সমাজ তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ‘একটা দেশের তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায় তাহলে করা সম্ভব। আমাদের তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারাবিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই তরুণ সমাজ করেছে।’

তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাই তাদের কাছে আমার আহ্বান, আসুন এবার রাষ্ট্রকে, দেশকে আমরা পুনর্গঠন করি। আগামী তিন মাসে আমাদের ডেঙ্গুর সমস্যা আমরা সমাধান করার চেষ্টা করি। হয়তো আমরা শতভাগ পারবো না, কিন্তু অন্তত ৮০ শতাংশ আমরা পারবো।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তিন মাসব্যাপী এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু কীভাবে ছড়ায়, তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন স্থানে ভাঙারি, কাগজপত্র, প্লাস্টিক ও মাটির তৈরি নানা ধরনের সামগ্রী পড়ে থাকে। এসব স্থানে পানি জমে এডিস মশার প্রজনন হয়। সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নেওয়া হলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘এই মাঠে আমরা যত মানুষ আজকে উপস্থিত আছি, প্রত্যেকে পানি খাই এবং প্রত্যেকে যদি একটা করে কিছু মাঠে ফেলে দেই, এখানে হয়তো কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু এই ময়লাগুলো আস্তে আস্তে জমা হয়ে আবর্জনা হবে। সেখান থেকে রোগজীবাণু তৈরি হবে। আপনি বা আপনার প্রিয়জন অসুস্থ হয়ে যাবে।’

এ কারণে নিজেদের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশকে সুস্থ রাখার দায়িত্ব সবার বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ‘তাই আসুন আমরা নিজেকে সুস্থ রাখি। নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখি। নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি। নিজের দেশকে আমরা সুস্থ রাখার চেষ্টা করি। এই কাজটা কিন্তু খুব কঠিন না।’

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। প্রতি সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ কিংবা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যয় করলেও দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘আজকে হয়তো আপনাদের একটু কষ্ট হবে। কিন্তু প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা যদি আমরা নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ বা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য কাজ করি তাহলে অবশ্যই দ্রুত এই পরিবর্তন আনতে আমরা সক্ষম হবো।’

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় অনেক মানুষকে অসচেতনভাবে যত্রতত্র ময়লা ফেলতে দেখা যায়। তাদের সচেতন করার পাশাপাশি যারা ময়লা-আবর্জনা তৈরি করেন, তাদেরও নিরুৎসাহিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এ কাজে দেশের প্রতিটি নাগরিককে সম্পৃক্ত হতে হবে। ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘তাই কথা একটাই। কাজ, কাজ, আর কাজ। এবং পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন আর পরিচ্ছন্নতাই হতে হবে আমাদের আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটি’র আহ্বায়ক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ