Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

খালাসের পরও ৮ বছর কারাগারে, ইব্রাহিমকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন নয়—হাইকোর্টের রুল

চেতনা একুশ প্রতিবেদক

দুটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে বেকসুর খালাস পাওয়ার পরও প্রায় আট বছর কারাগারে থাকার ঘটনায় ইব্রাহিম আলী শেখকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না কেন—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

রুলে খালাসের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছাতে দীর্ঘ বিলম্বের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের অবহেলা ও গাফিলতি তদন্তের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইব্রাহিমের পুনর্বাসন, বাসস্থান ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না—রুলে সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এর আগে গত জুলাই মাসে একটি দৈনিকে ‘জেল থেকে মুক্তি পাইছি, জীবনডা ফেরত পাই নাই’ শিরোনামে ইব্রাহিম আলী শেখকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে, পৃথক দুটি মামলায় ২০১৭ সালের জুলাই মাসে হাইকোর্ট থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছিলেন ইব্রাহিম। কিন্তু খালাসের আদেশের কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে লেগে যায় প্রায় আট বছর।

ফলে আদালতের খালাসের আদেশ থাকা সত্ত্বেও ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কারাগারেই থাকতে হয় তাঁকে।

ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে খালাসের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে বিলম্বের ঘটনা তদন্ত এবং ইব্রাহিম আলী শেখকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গত সপ্তাহে হাইকোর্টে রিট করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব আইনজীবী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হাসান শহীদ কামরুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসীম সরকার ও মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক।

শুনানি শেষে আইনজীবী হাসান শহীদ কামরুজ্জামান বলেন, একটি হত্যা মামলায় ২০১৭ সালের ২০ জুলাই এবং অপর একটি ফৌজদারি মামলায় ১৯ জুলাই ইব্রাহিম আলী শেখকে হাইকোর্ট বেকসুর খালাস দেন। কিন্তু সেই খালাসের আদেশ সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষসহ দায়িত্বশীলদের কাছে পৌঁছায় ২০২৫ সালে।

তিনি বলেন, খালাস পাওয়ার পরও কোনো অপরাধ ছাড়াই দীর্ঘ আট বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে ইব্রাহিমকে। এতে তাঁর মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় নষ্ট হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের অবহেলা ও গাফিলতি তদন্তের পাশাপাশি ইব্রাহিমের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

রিট আবেদনকারী আইনজীবী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক জানান, খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা ইব্রাহিম আলী শেখ পেশায় নৈশপ্রহরী ছিলেন। ২০০৩ সালে রাতে পাহারার দায়িত্ব শেষে সকালে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে হত্যা ও অন্যান্য ফৌজদারি মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়।

অসচ্ছলতার কারণে নিজের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করাও সম্ভব হয়নি ইব্রাহিমের। হত্যা মামলায় দায়রা আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। অন্য একটি ফৌজদারি মামলায় দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

পরবর্তী সময়ে হত্যা মামলায় পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্য না থাকায় ২০১৭ সালের ২০ জুলাই হাইকোর্ট তাঁকে খালাস দেন। একইভাবে অপর মামলাতেও যাবজ্জীবন সাজা থেকে খালাস পান তিনি।

কিন্তু আদালতের সেই খালাসের আদেশ কার্যকর হতে লেগে যায় আরও প্রায় আট বছর। সংশ্লিষ্টদের তদবির ও দায়িত্ব পালনের ঘাটতির কারণে খালাসের আদেশের কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে সময়মতো পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, আদালতের খালাসের আদেশ থাকা সত্ত্বেও ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইব্রাহিমকে কারাগারে থাকতে হয়েছে। দীর্ঘ এই বন্দিজীবনের মধ্যে তাঁর স্ত্রীও অন্যত্র চলে যান। বছরের পর বছর কারাগারে থাকার কারণে ইব্রাহিম শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

রিটে ইব্রাহিম আলী শেখকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পুনর্বাসন, নিরাপদ বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এখন হাইকোর্টের জারি করা রুলের জবাবেই নির্ধারিত হবে—আদালতের খালাসের আদেশের পরও প্রায় আট বছর কারাগারে থাকার জন্য ইব্রাহিম আলী শেখকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে কি না।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ