Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

নভেম্বর-ডিসেম্বরে হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

চেতনা একুশ রিপোর্ট (ঢাকা )-গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপি সরকার গঠনের কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৫৪টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে উপজেলা ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ না করে দ্রুতই নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সম্প্রতি বলেন, উপজেলা ও পৌরসভায় নতুন করে প্রশাসক নিয়োগের কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্তমানে যেসব স্থানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন, সেখানে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নেবেন। চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার চারটি অধ্যাদেশ জারি করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনে। সে সময় জনপ্রতিনিধিদের বড় অংশ আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬১টি জেলা পরিষদ ও ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের কাঠামো বহাল রাখা হলেও যেসব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান অনুপস্থিত ছিলেন, সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।

বর্তমান সরকারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, যেহেতু চলতি বছরের ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হবে ২০ মে। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত। এরপর জুন-জুলাই মাসে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা। জুন ও জুলাই মাসে প্রচণ্ড গরম এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বর বর্ষার মৌসুম। সব মিলিয়ে শীতের সময়টিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য সুবিধাজনক বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরো জানা গেছে যে, দলীয় পরিচয় ও প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার কারণে বিগত স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনার পাশাপাশি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং গ্রামীণ সম্প্রীতির ওপরও প্রভাব পড়ে। সেই কারণে প্রতীক তুলে দিয়ে অতীতের মতোই স্থানীয় সরকার কাঠামোর ভোটকে উৎসবে পরিণত করতে চায় সরকার।

গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিল-২০২৬ পাস হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। ফলে রাজনৈতিক দলের সদস্য স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

বিএনপিও দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় জানিয়ে দলটির যুগ্ম মহাসচিব ইমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহার অনুযায়ী বিএনপি দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে চায়। তবে সবে মাত্র সরকারের বয়স দুই মাস হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে, ফলে বৈশ্বিকভাবে অর্থনীতি গতি হারিয়েছে। আর নির্বাচন আয়োজনে একটা বিশাল বাজেট প্রয়োজন। এছাড়া এ সময়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড পরীক্ষা রয়েছে। এরপর বর্ষা আছে। এর মধ্যেই দ্রুত নির্বাচন আয়োজনে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করি, চলতি বছরের শেষের দিকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সর্বশেষ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

অপরদিকে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন শেষ করা হবে।
রিপোর্টার : এড. নাসরিন বেগম।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ