
নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ
অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বেলা ২টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে অবস্থান করছিলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তার মরদেহ কবে দেশে আনা হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জানাজা ও দাফনের স্থান এবং সময় চূড়ান্ত হলে পরিবারের পক্ষ থেকে তা জানানো হবে।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন একজন পথিকৃৎ। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, সজ্জন ও বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপতি তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত স্মৃতির কথাও শোকবার্তায় স্মরণ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। সাংবাদিকতা জীবনের শুরুতে তিনি ডেইলি স্টার ও বিবিসিতে কাজ করেন। পরে ২০০৬ সালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে সম্প্রচার, প্রিন্ট ও ডিজিটাল—তিন মাধ্যমেই কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। ব্যবসা, রাজনীতি, অর্থনীতি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বিষয়সহ সাংবাদিকতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি কাজ করেছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণও নেন তিনি। ঢাকা, লন্ডন, প্যারিস ও টোকিওর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এই গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
ডিজিটাল সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতিও পেয়েছেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ উন্নয়নে বিশেষ স্বীকৃতি ও সম্মাননা হিসেবে তিনি জাতীয় আইসিটি পুরস্কার অর্জন করেন।
তার মৃত্যুতে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দীর্ঘ কর্মজীবনে অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে সহকর্মী, সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীরা শোক প্রকাশ করছেন।


