Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

এনসিপি নেতা মিফতাহুল হক তানবীর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, জমি দখল ও হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ভুক্তভোগীর

ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি। চেতনা একুশ:

চেতনা একুশ ডেস্ক: চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন বাড়িতে ভাঙচুর, জমি দখলের অপচেষ্টা, ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং আদালত প্রাঙ্গণে হামলার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব মিফতাহুল হক তানবীর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় নিজের ও পরিবারের চরম নিরাপত্তাঝুঁকির কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ নুরুল্লাহ সবুজ।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নুরুল্লাহ সবুজ অভিযোগ করেন, তিনি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে হামলা, হুমকি এবং নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুবাদে তাণ্ডব ও চাঁদা দাবি

সংবাদ সম্মেলনে নুরুল্লাহ সবুজ জানান, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগিয়ে এনসিপি নেতা মিফতাহুল হক তানবীর ও তার ভাই মিরাজুল হক সাব্বির সহ একদল দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক তার নির্মাণাধীন বাড়ির কাজ বন্ধ করে দেয়। এ সময় হামলাকারীরা একটি গাড়ি ভাঙচুর ও নগদ অর্থ লুটপাট করার পাশাপাশি তার বৃদ্ধ মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালায়।

পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হলে পুলিশি তদন্তে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে এবং আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

নুরুল্লাহর দাবি, আইনি পদক্ষেপে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা মামলা তুলে নেওয়ার শর্তে তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। নতিস্বীকার না করায় ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এর জের ধরে গত ৩ এপ্রিল গভীর রাতে তানবীরের নেতৃত্বে নির্মাণাধীন বাড়ির সীমানাপ্রাচীর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যার সিসিটিভি ফুটেজ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি জানান।

সাজানো মামলা ও আদালত প্রাঙ্গণে হামলা

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, এনসিপির অন্য এক নেতা জুবায়ের আরিফের প্রভাবে হাটহাজারী থানায় তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে উল্টো একটি সাজানো মামলা করা হয়েছে। ফলে আইনি প্রতিকার চাইতে গিয়ে তারা নতুন করে প্রশাসনিক হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, গত ২৬ অক্টোবর মামলার নির্ধারিত ধার্য তারিখে আদালত প্রাঙ্গণেই জামিনে থাকা আসামিরা নুরুল্লাহ সবুজের ওপর পুন হামলা চালায়।

বর্তমানে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে তার বাড়ির সামনে মহড়া দিচ্ছে এবং ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। বারবার মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেও কাঙ্ক্ষিত আইনি সহায়তা না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় নিজের ও স্বজনদের জীবনের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপের দাবি জানান তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার এনসিপি নেতার

তবে সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত এনসিপি নেতা মিফতাহুল হক তানবীর। তাঁর ভাষ্যমতে, ঘটনাটি মূলত একটি পারিবারিক বিরোধের জের। নুরুল্লাহ সবুজকে নিজের সৎ মামাতো ভাই উল্লেখ করে তানবীর দাবি করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয়েছিল।

সীমানাপ্রাচীর ভাঙার মামলায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তানবীর বলেন, তদন্তে পুলিশ অভিযোগটিকে মিথ্যা বলে প্রমাণ পেয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুতই সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করবেন বলে জানান তিনি।

উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মুখে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ