
বিশেষ প্রতিনিধি । চেতনা একুশ
গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চায় সরকার – এমনটাই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে দেশে ফেরানোর অনুরোধও জানানো হয়েছে, যাতে তিনি বাংলাদেশের আদালতে বিচার মোকাবিলা করতে পারেন।
সম্প্রতি ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানানোর পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালেও এখন পর্যন্ত দিল্লির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (সিএএ) কার্যকর হওয়া প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি পুরোপুরি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তিনি বলেন, ভারতের নাগরিকত্ব আইন বা আসামের এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে সীমান্তে যেন কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ না ঘটে, সে জন্য বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রাজধানীর মিরপুরে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায়ও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামি সোহেল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংঘটিত প্রতিটি আলোচিত অপরাধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ও পেশাদার পদক্ষেপ নিয়েছে। কোনো ঘটনায়ই অপরাধীদের আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ ও ‘রি-অ্যাক্টিভ’—দুই ধরনের কৌশলে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য মতে, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানগুলো প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের অংশ। অন্যদিকে ধর্ষণ বা হত্যার মতো ঘটনায় দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার ও তদন্ত সম্পন্ন করা হচ্ছে প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থার আওতায়।
দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলার তদন্ত নতুন করে শুরু হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কুমিল্লার তনু হত্যা মামলা, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, বগুড়ায় তরুণী ধর্ষণ, কাপাসিয়ায় পাঁচ খুন এবং রাজধানীর মান্ডায় প্রবাসী হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ডিএমপির বিশেষ চিরুনি অভিযান ও ব্লক রেইড অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। মে মাসের শুরু থেকে মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর ও আদাবর এলাকায় অভিযান চলছে। এছাড়া যাত্রাবাড়ী ও তেজগাঁও এলাকাতেও অভিযান চালিয়ে বহু ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলেও বিশেষ অভিযানে দীর্ঘদিনের পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইন সংস্কার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী আইনকে যুগোপযোগী করা হবে। তবে আবেগতাড়িত হয়ে তড়িঘড়ি করে আইন প্রণয়ন বা বিশেষ আদালত গঠন করলে অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন কোনো অবিচার না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা বলেন তিনি।


