Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

সাইবার সুরক্ষা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা: সাংবিধানিক অধিকারের প্রতিফলন

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হলো গণমাধ্যম। তথ্যপ্রযুক্তির এই স্বর্ণযুগে ডিজিটাল নিরাপত্তা যেমন অপরিহার্য, তেমনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করে এমন কোনো আইনি কাঠামো কাম্য নয়। ২০২৬ সালের বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হচ্ছে—আমরা কি ডিজিটাল সুরক্ষার নামে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করছি, নাকি প্রকৃত অর্থেই একটি নিরাপদ সাইবার বিশ্ব বিনির্মাণ করছি?**
বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ডিজিটাল আইনের প্রয়োগ নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে। আমরা দেখেছি, সাইবার অপরাধ দমনের চেয়ে এই আইনগুলো অনেক ক্ষেত্রে মুক্তচিন্তা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে যখন নতুন সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তখন ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মধ্যকার অমীমাংসিত দ্বন্দ্বটির অবসান হওয়া জরুরি। নিরাপত্তার আড়ালে সেন্সরশিপ নয়
সাইবার স্পেসে গুজব ছড়ানো, হ্যাকিং কিংবা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য শক্তিশালী আইনের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। কিন্তু যখন সেই আইন সাংবাদিকের কলমকে থামিয়ে দেয়, তখন গণতন্ত্রের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়ে। ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা’ কোনোভাবেই ‘ডিজিটাল নজরদারি’ বা ‘মতপ্রকাশের বাধা’ হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

  • ভয়ের সংস্কৃতি দূরীকরণ: তথ্য অধিকার ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথে বাধা সৃষ্টি করে এমন সব ধারা বাতিল কrরা এখন সময়ের দাবি। সাংবাদিকরা যদি আইনি জটিলতার ভয়ে সত্য প্রকাশে দ্বিধাবোধ করেন, তবে সমাজে দুর্নীতি ও অপশাসন জেঁকে বসবে।
    স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া: ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কেউ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না হন। গণমাধ্যমের সামাজিক দায়বদ্ধতা
    স্বাধীনতার সাথে সাথে দায়বদ্ধতার প্রশ্নটিও সমান্তরালভাবে চলে। বর্তমানের ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ এবং ‘ক্লিকবেইট’ সাংবাদিকতার যুগে ভুল তথ্য বা অপপ্রচার রোধে গণমাধ্যমকর্মীদের নিজস্ব ‘কোড অফ এথিক্স’ মেনে চলা জরুরি।
    ১. ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের গুরুত্ব: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংবাদ প্রকাশের আগে এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য শক্তিশালী কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
    ২. পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা:গণমাধ্যমকে কর্পোরেট বা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
    আগামীর পথ
    আমরা একটি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এর দিকে ধাবিত হচ্ছি। এই স্মার্টত্বের প্রথম শর্তই হলো অবাধ তথ্যপ্রবাহ। সরকার, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি নীতিমালা তৈরি করতে হবে যা সাইবার অপরাধীকে দমন করবে, কিন্তু মুক্ত কলমকে সুরক্ষা দেবে।
    ‘চেতনা একুশে’ বিশ্বাস করে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ডিজিটাল নিরাপত্তার বিরোধী নয়, বরং পরিপূরক। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ডিজিটাল সমাজ গড়া সম্ভব। রাষ্ট্রকে মনে রাখতে হবে, মুক্ত গণমাধ্যম সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, বরং সমাজের দর্পণ। সেই দর্পণকে ঝকঝকে রাখার পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রেরই সাংবিধানিক দায়িত্ব।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ