Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: সীমান্তে পুশ ইন ইস্যু আলোচনা হবে


নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ :


সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের টানাপোড়েনের মধ্যেই অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। মূলত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের কারণে তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।


বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটারের সুদীর্ঘ স্থল ও নদী সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে দুই দেশে দুবার এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে এবারের বৈঠকের প্রেক্ষাপট অন্যান্য বারের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বেশ সংবেদনশীল।


বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এবং ওপারে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর—দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বিশেষ করে, পশ্চিমবঙ্গে নতুন ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের ঘোষিত ‘ডিটেক্ট, ডিলেট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ (শনাক্তকরণ, বাতিলকরণ ও বহিষ্কার) অভিযানকে কেন্দ্র করে যখন নথিপত্রহীন তথাকথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের টার্গেট করা হচ্ছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।


এই জটিল পরিস্থিতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গভীর সতর্কতা ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, “সেখানে সব বিষয় নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হবে। আমরা ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক চ্যানেলে এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলছি এবং আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলো প্রাথমিকভাবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সমীচীন।


একই সুর শোনা গেছে সালাহউদ্দিন আহমদের কণ্ঠেও। তিনি জানান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আসন্ন মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকেও এই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হবে।


অন্যদিকে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এই বৈঠকে সীমান্তপারের বিভিন্ন অপরাধ, তথাকথিত বাংলাদেশভিত্তিক ‘দুর্বৃত্তদের’ দ্বারা বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ, সীমান্ত বেড়া নির্মাণে স্থবিরতা এবং বাংলাদেশে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কথিত সক্রিয়তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মতো বিষয়গুলো টেবিলে তুলতে পারে বলে জানা গেছে।


আঞ্চলিক রাজনীতি ও সীমান্ত সুরক্ষার এই ক্রান্তিকালে বিজিবি-বিএসএফের এই শীর্ষ বৈঠকটি দুই দেশের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ