Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

নাগরিক স্বাধীনতা মানেই যা ইচ্ছা তা করা নয়। দেশে কেউ অস্থিরতা তৈরি করলে পুলিশ কঠোর ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে: আইজিপি আলী হোসেন ফকির

নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ

দেশের প্রতিটি নাগরিকের শান্তি ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অবস্থাতেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে সরকারি নির্দেশনা ও আইনের পরিধির মধ্যে থেকে যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পুলিশ পিছপা হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির।

সম্প্রতি রাজধানীর চকবাজারে ‘কমিউনিটি ইসলামিক ব্যাংক সিস্টেম’-এর শুভ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, নাগরিক স্বাধীনতা মানেই যা ইচ্ছা তা করা নয়। প্রত্যেকেরই সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে চলা উচিত। দেশে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করে, তবে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক গুঞ্জন প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা বা না ফেরা পুলিশের বিষয় নয়। তবে দেশে কেউ অস্থিরতা তৈরি করলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।’ পুলিশের মূল লক্ষ্য এবং দায়িত্ব হলো দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও দেশের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা বিধান করা।

আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, কথায় কথায় সব দোষ পুলিশের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা সঠিক নয়। পুলিশকে সংবিধান অনুযায়ী তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে। যদি সংস্থার কোনো সদস্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হন এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবেই সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলতে পারেন। কিন্তু বর্তমানে ঘটে যাওয়া সামাজিক অপরাধসমূহ প্রতিকারে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দায়িত্ব পালন করাই সময়ের দাবি।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি পাড়া-মহল্লায় মাদকের প্র বিস্তার এবং মাদকের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। অপকর্মে যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং এ ধরনের কঠোর তদারকি ও আইনি প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পরিশেষে, একটি নিরাপদ, শান্তিময় ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নাগরিক ও পুলিশের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন আইজিপি।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ