
নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ। ঢাকা:
উন্নত ও আলোকিত একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের তরুণ সমাজ আজ মেধার স্বাক্ষর রাখতে প্রস্তুত। একুশের রক্তস্নাত পথ বেয়ে এগিয়ে চলা শিক্ষা অঙ্গনে এক নতুন আশার বাণী শুনিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রতিটি শিক্ষার্থীই উচ্চশিক্ষায় উচ্চতর সিঁড়িতে পা রাখার সুযোগ পাবেন। কারণ, দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার আসন প্রস্তুত রয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশকালে শিক্ষামন্ত্রী এই সুসংবাদ জানান। একুশের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবন আরও বেগবান ও সম্ভাবনাময় করে তুলতে এই যুগান্তকারী ঘোষণা এসেছে।
ফলাফলের সামগ্রিক চিত্র
এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। সারাদেশে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।
মেধার মুকুট বা জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র রয়েছেন ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রীদের সংখ্যা ১৯ হাজার ৭২১ জন। একুশের সমতায় নারী ও পুরুষের এই যৌথ অগ্রযাত্রা জাতির জন্য এক গৌরবের বিষয়।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ
ভাষার মাসের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে এবারের ফলাফলে এক নতুন মানবিক ও কল্যাণমুখী সংস্কারের ছোঁয়া লেগেছে। সর্বোচ্চ এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীকে মাত্র এক মাসের মধ্যে কেবল ফেল করা বিষয়গুলোর ওপর পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
চিরাচরিত নিয়মে পাবলিক পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হলে শিক্ষার্থীদের আস্ত একটি বছর নষ্ট করতে হতো। এই এক বছরের অপচয় কেবল তাদের শিক্ষাজীবনকেই শ্লথ করত না, বরং মানসিক অবসাদও বাড়িয়ে দিত। একুশের চেতনাকে ধারণ করে এই জট ও দীর্ঘসূত্রিতা ভাঙার এক সাহসী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবার।
সাফল্যের বৈপরীত্য ও চ্যালেঞ্জ
একুশের প্রদীপের আলোর পাশাপাশি এবারের ফলাফলে কিছু কাঠামোগত চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে। দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি—অর্থাৎ এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল শূন্যের কোঠায় নেমেছে। অন্যদিকে, গৌরবের সঙ্গে শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে ১৩৯টি প্রতিষ্ঠান। বৈষম্যহীন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ব্যবধান দূর করতে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি এখন আরও দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন।


