Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০২ গুণী শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা: ‘শিক্ষকতা সাধারণ চাকরি নয়’, বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ

বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ের ১০২ জন গুণী শিক্ষককে মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা দিয়েছে সরকার।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানান, শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জন, মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০ জন, কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন এবং সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ২০ জন শিক্ষককে সম্মাননার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তিনজন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তিনজন এবং অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চারজন শিক্ষক এ সম্মাননা পেয়েছেন।

এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ পছন্দে নির্বাচিত আরও সাতজন গুণী শিক্ষককেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রীয় এ স্বীকৃতির অংশ হিসেবে সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে দুই লাখ টাকা নগদ অর্থ, একটি করে ক্রেস্ট এবং সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের সব পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও প্রিয়জন হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও সহজ হবে।

সোমবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দিকনির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারিবারিক পাঠশালার গণ্ডি পেরিয়ে একজন শিক্ষার্থীর জীবনে শিক্ষক-শিক্ষিকারাই আদর্শ ও রোল মডেল হিসেবে সামনে আসেন। তাই শিক্ষকরা যেন নিজেদের আত্মবিশ্বাসী ও অনুসরণীয় রোল মডেল হিসেবে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সরকার কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে।

বর্তমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন এখন সময়ের অন্যতম বড় দাবি।

শিক্ষার্থীদের বইবিমুখতা দূর করতে শিক্ষণ ও শিখন পদ্ধতির আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি বছরেই নতুন সিলেবাস অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামে নতুন বইও দেওয়া হচ্ছে।

প্রযুক্তি কখনো শিক্ষকের বিকল্প নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে শিক্ষকের শক্তি হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে। ‘একজন শিক্ষক, একটি ট্যাব’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকদের ডিজিটাল লেসন প্ল্যান ও প্রশ্নব্যাংক ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতা কোনো বিকল্প পেশা কিংবা সাধারণ চাকরি নয়। দেশের সবচেয়ে মেধাবী মানুষরা যাতে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে প্রথম অগ্রাধিকার দেন, সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, বেতন কিংবা অবসরভাতার জন্য শিক্ষকদের আর অফিসে ঘুরে হয়রানি হতে হবে না। নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে তাদের প্রাপ্য অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রাখা শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকতার মর্যাদা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর সরকারের অঙ্গীকারও তুলে ধরা হয়।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ