Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

রাজধানী ও আমাদের পরিবেশগত উদাসীনতা

ঢাকা আজ আক্ষরিক অর্থেই এক বিপন্ন শহর। গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের দূষিত বাতাসের তালিকায় শীর্ষস্থানটি যেন এই মেগাসিটির জন্য বরাদ্দ হয়ে গেছে। বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ আর অপরিকল্পিত নগরায়ণের কবলে পড়ে ঢাকা আজ তার প্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো কার্যকর রোডম্যাপ কি আমাদের আছে?
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ঢাকার বায়ুর মান এতটাই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একে কেবল ‘অস্বাস্থ্যকর’ বললে ভুল হবে; এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য এখন এক নীরব ঘাতক। শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। উন্নয়নের নামে আমরা উড়ালসেতু আর আকাশচুম্বী দালান পাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু বিশুদ্ধ বাতাস নেওয়ার মতো এক টুকরো অক্সিজেনসমৃদ্ধ খোলা জায়গা হারিয়ে ফেলছি। শহরের চারপাশের নদীগুলো আজ বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, যা পরিবেশগত ভারসাম্যকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছে।
সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, এই বিপর্যয়ের জন্য আমরা যতটা না প্রকৃতির ওপর দায়ী, তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ী আমাদের অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাব। পুরনো যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, যত্রতত্র নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা এবং ঢাকার চারপাশের অবৈধ ইটভাটাগুলো বছরের পর বছর বিষ ছড়াচ্ছে। উচ্চ আদালত বারবার নির্দেশনা দিলেও তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও উদাসীনতা চোখে পড়ার মতো।
‘চেতনা একুশ’ মনে করে, পরিবেশ রক্ষা এখন আর কেবল বিলাসিতার আলাপ নয়, এটি বেঁচে থাকার লড়াই। কেবল বিশেষ কোনো দিবস পালন বা লোকদেখানো বৃক্ষরোপণ দিয়ে এই সংকট কাটবে না। এর জন্য প্রয়োজন টেকসই এবং কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ। পরিবেশ বিধ্বংসী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিতে হবে। শহরের ভেতরে সবুজায়ন বাড়ানো এবং নদীগুলোকে দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।
আমরা যদি এখনই সজাগ না হই এবং প্রকৃতিকে তার প্রাপ্য মর্যাদা না দেই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা কেবল একটি কংক্রিটের মরুভূমি রেখে যাব। কর্তৃপক্ষকে বুঝতে হবে, বিশুদ্ধ বাতাস ও বাসযোগ্য পরিবেশ নাগরিকের মৌলিক অধিকার, দয়া নয়। জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঢাকাকে পুনরায় বাসযোগ্য করে তোলার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করতে আমরা সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রকৃতি বাঁচলে আমরা বাঁচব—এই সত্যটি অনুধাবন করা আজ অতি জরুরি।

ডক্টর মুহাম্মদ হায়দার আলী, সম্পাদক

চেতনা একুশ

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ