Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

গার্মেন্টস শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী; শ্রমমন্ত্রীর বিদেশ সফর স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | চেতনা একুশ:

দেশের তৈরি পোশাকশিল্প খাতে চলমান তীব্র শ্রমিক অসন্তোষ ও উদ্ভূত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি কঠোরহস্তে মোকাবিলায় নজিরবিহীন জরুরি তৎপরতা শুরু করেছে সরকার। পোশাক খাতের এই অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর ও সময়োপযোগী কৌশল নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন মন্ত্রী ও নীতিনির্ধারক উপদেষ্টাকে নিজের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে তলব করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পরপরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সংকটের গভীর মূল্যায়ন এবং তা দ্রুত নিরসনের রূপরেখা তৈরি করতেই প্রধানমন্ত্রী ৬ থেকে ৭ জন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে এই বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। নির্ধারিত এই বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছাড়াও সরকারের কয়েকজন নীতিনির্ধারক মন্ত্রী এবং উপদেষ্টা মাহদী আমিনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এদিকে তৈরি পোশাকশিল্পের চলমান আন্দোলন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে জরুরি ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর বাতিল করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, আজ দুপুর ১টার দিকে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দেশজুড়ে শ্রমিক পরিস্থিতির অবনতি এবং সরকারের চলমান কঠোর তৎপরতার প্রেক্ষাপটেই তাঁর এই বিদেশ সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।

এর আগে আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পোশাকশ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে তাঁদের মজুরি পুনর্বিবেচনার জন্য একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শ্রমিক অসন্তোষের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী দুই দিন আগে এ বিষয়ে কঠোর ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির জন্য মনোনীত ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত করতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের কিছুটা সময় লাগার কারণে মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া সামান্য বিলম্বিত হয়।

উল্লেখ্য, মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার যৌক্তিক দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে লাগাতার আন্দোলন ও বিক্ষোভ চালিয়ে আসছেন তৈরি পোশাকশ্রমিকেরা।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ সকাল থেকে রাজধানীর ব্যস্ততম মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ের প্রধান সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা। এই অবরোধের ফলে ওই এলাকার চারপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি শুধু রাজধানীর মিরপুরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; উত্তরের শিল্পাঞ্চল গাজীপুরেও শ্রমিকেরা বিভিন্ন সড়কে নেমে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। শ্রমিকদের জোরালো মজুরি বৃদ্ধির দাবি, খণ্ডকালীন বিক্ষোভ এবং বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের ঘটনায় পুরো দেশের শিল্পাঞ্চলজুড়ে এখন চরম উত্তেজনাকর ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এই জটিল ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিদাওয়া, নবগঠিত মজুরি বোর্ডের কার্যক্রমের গতিশীলতা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে দ্রুত স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উপায় নিয়ে আজ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই বৈঠকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং শ্রমিক অসন্তোষ স্থায়ীভাবে নিরসনে সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ