Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: ১০ কার্যদিবসে রায়, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

চেতনা একুশ অনলাইন ডেস্ক:


ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এক অনন্য ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আদালত। ঘটনার মাত্র ২৪ দিনের মাথায় এবং মাত্র ১০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। চার আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর এক অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে সাড়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।


বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পৃথকভাবে এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনালের রায় ও দণ্ডাদেশ

আদালত সূত্রে জানা যায়, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় মামলার প্রধান তিন আসামি—আরিফ, রাকিব ও সায়েমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারা মোতাবেক মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় প্রদান করেন।


অন্যদিকে, অপরাধে জড়িত অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারা মোতাবেক আরও আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় অনুযায়ী, দুটি দণ্ডই একসাথে কার্যকর হবে। বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে সাধারণ কারাগারে স্থানান্তর করা হবে।

আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিজ্ঞ আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবী (ষ্টেট ডিফেন্স) নিযুক্ত করে দেন। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মোট ১০ কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করার পর আদালত এই চূড়ান্ত রায় দেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেলে স্থানীয় বাজার থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফিরছিল পাঁচ বছরের ওই শিশুটি। পথে কদম ফুল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে কংস নদের পাড়ে একটি জঙ্গলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে চার তরুণ। পাশবিকতার পর শিশুটি জীবিত থাকা অবস্থাতেই তাকে নদীতে ফেলে এবং পানির নিচে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ তলদেশে পুঁতে রাখা হয়। ঘটনার দিন রাতেই পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে এবং দ্রুততম সময়ে (মাত্র ৯ দিনের মধ্যে) আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে এত দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট। আমরা বিশ্বাস করি, এই দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুত রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে।”

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ