
চেতনা একুশ ডেস্ক:
ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ, নজিরবিহীন আর্থিক অনিয়ম এবং এর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাতীয় সংসদে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলীয় নেতার আনা একটি নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ব্যাংকটি দখলের সময় যে যাতনা বা পন্থায় তা করা হয়েছিল, এখন তা বেদখল হওয়ার সময় একই যাতনা অনুভূত হওয়াটাই স্বাভাবিক, মাননীয় স্পিকার।”
বাজেট অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ইসলামী ব্যাংকে ঘটে যাওয়া নানা অনিয়মের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যাংকটির ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘আরডিএস’ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে আরও ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া নাবিল গ্রুপকে এলসির বিপরীতে ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হলেও সেই টাকা আর ফেরত আসেনি। এই বিশাল অর্থ কোনো একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিলে গেছে বলে বাজারে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নাবিল গ্রুপের ১৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ দায়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে।
ব্যাংকটির অভ্যন্তরে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চরম বৈষম্য ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব নিয়মকানুন ভেঙে ৯ হাজার অভিজ্ঞ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং একটি বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে নতুন করে ৬ হাজার জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, ১৩ হাজার কর্মীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে একাধিক পদোন্নতি দেওয়া এবং সিএসআরের (CSR) নামে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের বিমানের টিকিটসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ব্যয় ব্যাংকের তহবিল থেকে নির্বাহ করার মতো চাঞ্চল্যকর অনিয়মগুলোর বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হবে।
মালিকানা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের ৮১ শতাংশ শেয়ার একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকার সব শেয়ারহোল্ডারের প্রকৃত পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করবে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে শেয়ার ফিরিয়ে দেওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সাথে, এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে ওঠা লক্ষ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগসহ বিদেশে অর্থ পাচারের প্রতিটি ঘটনার বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
এদিকে, ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বা কোনো তদন্ত চলমান নেই। তবে নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।
জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কঠোর ও স্পষ্ট বক্তব্য আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বর্তমান সরকারের আপসহীন অবস্থানকেই পুনরুল্লেখ করে।


