Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২ সাবেক সেনা কর্মকর্তা আটক, ৪ দিনের রিমান্ডে

লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ। ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ

রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংসতায় উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রিমান্ডে নেওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া (৪৭)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ও বিশেষ অপরাধ বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে, আসামিদের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মুনসুর রিপন রিমান্ড বাতিলের পাশাপাশি তাঁদের জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে দুই আসামিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়। পরে হাজতখানা থেকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁদের এজলাসে হাজির করা হয়।

হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে উসকানিমূলক ডিজিটাল উপকরণ প্রচারের অভিযোগ

তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, দুই আসামি রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকার একটি বাসায় অবস্থান করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল উপকরণ তৈরি এবং প্রচার করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাঁরা সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। পুলিশের অভিযোগ, এসব যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের কার্যক্রমে তাঁরা যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল বলেও রিমান্ড আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

২০১৮ সালের গোলটেবিল বৈঠকের প্রসঙ্গ

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে ২০১৮ সালে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে দাবি করা হয়, ওই বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে দুই কর্মকর্তা ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করেন। পরবর্তী সময়ে সংগঠনটির ১০১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এ ছাড়া সংগঠনটির সঙ্গে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাই করতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন।

পল্লবী ও বনানী ডিওএইচএসে অভিযান

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

মামলাটিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তাধীন। আদালতে রিমান্ড মঞ্জুরের অর্থ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়; তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ