Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

দালাল চক্রের প্রতারণা ও রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের বলি বাংলাদেশি ২ তরুণ

নিহত রিয়াদ রশিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | চেতনা একুশ

ভাগ্যান্বেষণে সুদূর রাশিয়ায় গিয়ে লাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের তরুণ মো. রিয়াদ রশিদকে। তবে মরদেহের সন্ধান না মেলায় সেই ফেরার পথও এখন অনিশ্চিত। গত ২রা মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্তে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান ২৮ বছর বয়সী এই যুবক। দালালের প্রতারণায় পড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় নিভে গেল তার জীবন প্রদীপ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি কোম্পানিতে চাকরির আশায় রাশিয়া পাড়ি জমিয়েছিলেন মাঝিরকোনা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রশিদের ছেলে রিয়াদ। কিন্তু সেখানে গিয়েই শুরু হয় প্রতারণার জাল। কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পেয়ে এবং দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে গত ৭ই এপ্রিল অনিচ্ছা সত্ত্বেও রুশ সেনাবাহিনীতে নাম লেখান তিনি। তার ব্যাচ নম্বর ছিল ৭৩৫। কিন্তু এই যোগদানই যে তার জীবনের শেষ অধ্যায় হবে, তা ভাবেনি কেউ।

একই ক্যাম্পে থাকা নরসিংদীর আহত যুবক লিমন দত্তের মাধ্যমে জানা যায়, গত ২রা মে সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় রিয়াদসহ দুজন বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরিয়ান সৈন্য নিহত হন। এই হামলায় লিমন নিজেও একটি পা হারিয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি রিয়াদের পরিবারকে এই মর্মান্তিক দুঃসংবাদটি জানান।

বর্তমানে তার মরদেহের কোনো সন্ধান মিলছে না। ড্রোনের আঘাতে দেহ পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে কি না, সেই আশঙ্কায় বুক ফেটে যাচ্ছে স্বজনদের।

জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও রিয়াদের পিতা আব্দুর রশিদ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “ছেলে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কথা গোপন রেখেছিল। জানলে আমি কোনোদিন তাকে যেতে দিতাম না। এখন শুনছি লাশেরও হদিস নেই। বাবা হয়ে এই শোক কীভাবে সইবো?”

পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ রিয়াদ ছিলেন অবিবাহিত। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে গিয়ে আজ তিনি নিখোঁজ এক বীরের তালিকায়। প্রিয় সন্তানের লাশের অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছে পুরো গ্রাম। মাঝিরকোনা গ্রামে এখন কেবলই শোকের ছায়া।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ